ads

শনিবার , ২ জুলাই ২০১৬ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলা : রাতে রক্তাক্ত গুলশান

শ্যামলবাংলা ডেস্ক - ফটো কার্ড
জুলাই ২, ২০১৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

Gulshan-2 Hamlaশ্যামলবাংলা ডেস্ক : রাজধানীর সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের রেস্টুরেন্টে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। ১ জুলাই শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কমপক্ষে ৮-৯ জন বন্দুকধারী ভয়াবহ ওই রক্তাক্ত হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ২০ বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ৪০ জনকে জিম্মি করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিম্মিদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে গেলে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা তাদের ওপর হামলা করে। তাদের গুলিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ পুলিশ সদস্যসহ ৪০ জন। তাদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলাকারীদের পরিচয় ও তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা না গেলেও রাত ১টার দিকে আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশের শাখা আনসার আল ইসলাম এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) টুইট করে হামলার দায় স্বীকার করেছে। সন্ত্রাসীরা কারাগারে আটক জেএমবি নেতাদের মুক্তি দাবি করেছে। এর আগে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানে ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলাকে হত্যা করা হয়। তবে কূটনৈতিক এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এভাবে হামলা চালিয়ে বিদেশিদের জিম্মি করার ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। যদিও সম্প্রতি একের পর এক দেশে ব্লগার, লেখক ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এদিকে গুলশানে জিম্মি সংকটের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশকে সহায়তার প্রস্তাব দেয়। হোয়াইট হাউস বিষয়টির ওপর গভীরভাবে নজর রাখছে।
রাত ২টার দিকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল উইপন অ্যান্ড ট্যাকটিকস (সোয়াট) জিম্মিদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ ছাড়া রাত সোয়া ১টার দিকে সেনা, নৌবাহিনীর ৩০ সদস্যের বিশেষ কমান্ডো দল, ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা সশস্ত্র পাহারায় ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নিয়েছে। রাত পৌনে ৩টার দিকে হামলার শিকার রেস্টুরেন্টের পাশের একটি ভবন থেকে দু’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বিদেশি।
পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলসহ গুলশানের ৪ বর্গকিলোমটার এলাকা ঘিরে রেখেছে। ঢাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে মহানগর পুলিশ। দেশের সব বিমানবন্দর ও কেপিআইভুক্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বন্দুকধারী গুলশান-২ নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কের ‘হলি আর্টিসান বেকারি’ এবং ‘ও’কিচেন’ নামের দুটি খাবারের দোকানে একযোগে প্রবেশ করে। দু’টি প্রতিষ্ঠানটি একই ভবনে অবস্থিত। ‘ও কিচেনে’ স্প্যানিশ খাবার পরিবেশন করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বাংলাদেশি নাগরিক সা’দত মেহেদী। বন্দুকধারীরা হোটেলে প্রবেশ করে বিদেশি নাগরিকসহ অন্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ওই সময় অস্ত্রধারীরা ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিচ্ছিল।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গুলশানে জিম্মি সংকটের বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বুঝতেই পারেনি। তারা ‘সাধারণ অপরাধী’ মনে করে প্রথমে সেখানে অভিযান শুরু করলে হামলাকারীদের আক্রমণের শিকার হয় পুলিশ। আশপাশের থানা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিবির কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযানে গিয়ে রক্তাক্ত হয়ে পিছু হটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি গুলশানে ডিসি মোস্তাক আহমেদ পুরো বিষয়টি পুলিশের শীর্ষ মহলে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। এছাড়া বন্দুকধারীরা রেস্টুরেন্টে দুটি ব্যাগ নিয়ে কীভাবে প্রবেশ করল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র বলছে, গত ২৬ জুন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সকল ডিসি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি ক্ষুদে বার্তা দিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, বড় ধরনের জঙ্গি হামলা হতে পারে। আগাম একটি গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও পুলিশ কেন ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও’কিচেন রেস্টুরেন্টের সুপারভাইজার সুমন রেজা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৭-৮ জনের একটি দল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে। তাদের কারও কারও হাতে স্বয়ংক্রিয় বন্দুক এবং ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। কয়েকজনের হাতে ছিল তলোয়ার। তখন রেস্টুরেন্টে অন্তত ২০ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। এর মধ্যে একজন ইতালি এবং একজন জার্মানির নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন সুমন। রেস্টুরেন্টে অনেক বাংলাদেশিও ছিল। অস্ত্রধারীরা সবাইকে জিম্মি করলে তিনি ছাদ থেকে লাফিয়ে বাইরে আসতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক কর্মী ভেতরে আটকা পড়েছেন। তাদের ফোনে কল যাচ্ছে। কেউ রিসিভ করছে না। আবার কেটেও দিচ্ছে না।’ সুমন জানান, সন্ধ্যায় ইফতারের পর রেস্টুরেন্ট দুটিতে ক্রেতারা আসতে শুরু করেন। মূলত বিদেশিরা এই দুই রেস্টুরেন্টের ক্রেতা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের প্রিন্সিপাল লোরি অ্যান ওয়ালস ফেসবুকে ঘটনার বর্ণনা করে স্ট্যাটাস আপডেট করেন। তিনি জানিয়েছেন, হামলাকারীরা রেস্টুরেন্টে ঢুকেই ইতালীয় বেকার ও তার স্ত্রীকে গুলি করে। এ ঘটনার সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা জিম্মিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় রেস্টুরেন্টের ভেতরে থাকা বন্দুকধারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়ে। পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকধারীদের মধ্যে ৪০০-৫০০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। এ সময় পুরো এলাকায় নারকীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়। বোমা বিস্ফোরণের মুহুর্মুহু শব্দে কেঁপে ওঠে ৭৯ নম্বর সড়ক। যারা ওই হোটেলে আটকে পড়েছেন তাদের স্বজনের কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠছিল। অন্যদিকে গুলশানের অন্যান্য এলাকার পরিবেশ ছিল ভুতুরে।
পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ জিম্মিদের উদ্ধারে সময় নেবে। প্রাণহানি এড়াতে তাড়াহুড়া করা হবে না। জিম্মিদের অক্ষত উদ্ধার ও বন্দুকধারীদের জীবিত ধরাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীদের কাছে যথেষ্ট অস্ত্র নেই। তাদের শক্তি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাবে। তার আগে উদ্ধার অভিযান চালাতে গেলে জিম্মিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। হামলাকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও জানান, শান্তিপূর্ণভাবে জিম্মিদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারীরা আকস্মিক হামলা করে রেস্টুরেন্টে থাকা ক্রেতাদের জিম্মি করে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান চাই। বিপথগামী হয়ে যারা এ ঘটনা ঘটাচ্ছে, আমরা তাদের সঙ্গেও আলোচনা করতে চাই। আমরা প্রাণহানি চাই না।’ তিনি গণমাধ্যমের সহায়তা চেয়ে বলেছেন, ‘অনেকেই এটা টেলিভিশনে দেখছেন। জাতীয় স্বার্থে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ সরাসরি সম্প্রচার না করতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান বেনজীর আহমেদ।
গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কটি কূটনৈতিক এলাকাভুক্ত। এ সড়কে রাশিয়া, কাতারসহ আরও কয়েকটি দূতাবাস রয়েছে। হামলাকারীরা অন্তত ভারতীয়সহ অন্তত ২০ নাগরিককে জিম্মি করলেও তাদের মধ্যে কূটনীতিক রয়েছেন কি-না, নিশ্চিত নয়। ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের এনডিটিভি জানিয়েছে, দু’জন কূটনীতিক নিহত হয়েছেন। তবে দায়িত্বশীল কোনো সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জঙ্গি সংগঠনগুলো হামলা করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করলেও বাংলাদেশে এ ধরনের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে জঙ্গিদের গুপ্তহত্যায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। তবে গতকালের হামলার সঙ্গে আগের গুপ্তহত্যাগুলোর মিল নেই। সাধারণত উগ্রবাদীরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বিভিন্ন দাবি জানায়, তবে গুলশানে হামলকারী বন্দুকধারী এখনও কোনো দাবি-দাওয়া জানায়নি।
অন্যদের সঙ্গে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মালিহাও বন্দুকধারীর হাতে জিম্মি হয়েছেন। তার বাবা মোহাম্মদ ইমদাদ সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়ে রাত ৯টার দিকে ফোন করে বলেন ‘বাবা আমরা বিপদে পড়েছি। বাবা আমাদের বাঁচাও।’ তিনি জানান, এরপর আর মালিহার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মেয়েকে অক্ষত উদ্ধার করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। মেয়ের জীবনের কথা ভেবে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা শাগুফতা আনোয়ার জানিয়েছেন, ওসি সালাহউদ্দিন খানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর তার মৃত্যু হয়। ২৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেশিরভাগের অবস্থা সংকটাপন্ন। আরও অন্তত ২৩ জন কম-বেশি আহত হয়েছেন। পুলিশের উপকমিশনার রফিকুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান, পুলিশের গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল আহাদ, গুলশানের ওসি সিরাজুল ইসলাম, বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসিন গাজী, ডিবি সদস্য জিয়া ও পুলিশ সদস্য রফিকুল। পুলিশ কনস্টেবল প্রদীপ (২৮) ও আলমগীর (২৬) ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক সাংবাদিকদের জানান, দু’জনের কেউ গুলিবিদ্ধ নন, বোমার স্প্লিন্টারে আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রাতে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকা মেডিকেলে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। গুলশানের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দিতে ঢাকার সব হাসপাতালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটার সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। হাসপাতালের পরিচালকদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কয়েক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করতে যান তিনি। এর ১০-১৫ মিনিট পর তার স্ত্রী ফোন করে গোলাগুলির খবর জানান। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাসার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে তিনি বাসায় যেতে পারেননি। তার স্ত্রী টেলিফোনে জানান, তারা বাসায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। রাত ১১টার পর আর গুলির খবর পাননি বলে জানান সোহরাওয়ার্দী। তার মতো গুলশানের শত শত মানুষ রাতে রাস্তায় আটকা পড়েন। পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত মানুষ রাস্তায় আটকা পড়েন। এতে যানজট তৈরি হয়। সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত না হতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

Need Ads