মো: শাহ্ জামাল, জামালপুর : জামালপুরের মেলান্দহে অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে ভোগান্তির অন্তনেই। এনিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন ভূক্তভোগিরা। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দৈনিক শতশত ভুক্তভোগি উপজেলা ভূমি অফিসে ধর্না দিয়েও কূল-কিনারা পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন যাবৎ এসিল্যান্ড নাথাকায় বেড়েই চলেছে এ ভোগান্তি।
ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড হিসেবে বর্তমান ইউএনও রেজাউল করিম চার্জে থাকলেও অর্পিত সম্পত্তির কোন কাগজপত্রেই হাত দিচ্ছেন না। এতে জনদুর্ভোগে শিকার শতশত মানুষ ফুসে ওঠেছে। এসব মানুষ ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ডের কাছে গেলে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড আসার জন্য অপেক্ষায় থাকতে উপদেশ দিচ্ছেন। অবশ্য ইউএনও সমস্যাটি আইনী জটিলতা হিসেবে দেখছেন।
সরকাররের ঘোষণা অনুযায়ী ’খ’ তফসীলীভূক্ত অর্পিত সম্পত্তির দখলদারদের বৈধ কাগজপত্র থাকলে-এ সম্পত্তি রার আবেদন করার শেষ তারিখ আগামী ২২মে/১৫ নির্ধারণ করেছে। মেলান্দহ উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানাগেছে, এসিল্যান্ড নাথাকায় শতাধিক বৈধ কাগজপত্রধারী আবেদনকরেও নামজারি/জমা খারিজ পাচ্ছেন না। সাম্প্রতিককালে ভূক্তভোগি কৃষক ওবায়দুল ইসলামের মেয়ে ঢাকা উত্তরা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার খরচ যোগাতে সর্বশেষ অবলম্বন বাড়ির ভিটা বিক্রির সিদ্বান্ত নেন। ওই জমিটি অর্পিত সম্পত্তি হওয়ায় নামজারি/জমাখারিজের প্রয়োজন পড়ে। ওই কৃষকের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্তেও ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড অর্পিত সম্পত্তির অজুহাতে জমাখারিজ/নামজারি নাপেয়ে চোখমুছতে মুছতে অফিস থেকে বেরিয়ে যান। হতাশাগ্রস্থ ওই কৃষক ডিসি অফিসে অভিযোগ করেছেন। ১৯মে বিকেল সাড়ে ৪টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই কৃষকের কাজ হয়নি।
পাকিস্তান সরকার ১৯৬৫ সালে শত্রুসম্পত্তি নামে আইনটি চালু করে। পাক সরকার ’ডিফেন্স এ্যাক্ট’র বলে ’সেনসাস’ (শুমারী) তালিকা করে। যা ছিল ত্রুটীপূর্ণ। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে অর্পিত শুমারী তালিকা তৈরী পূর্বক ৪৫নং অধ্যাদেশ জারী করে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার জেলা-থানা ও মৌজা ওয়ারী অর্পিত সম্মপত্তির ’ক’ ও ’খ’ এই দু’টি তফসীলভূক্ত চুড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে।
অর্পিত সম্পত্তি রা করে পাবলিককে সরকার বছর ওয়ারী লিজ দেয়া সম্পত্তিকে ’ক’ তফসীল এবং জবর দখল কিংবা অন্য উপায়ে ভিন্ন মালিকানায় কিংবা যে সম্পত্তি পূর্বাবস্থায় আছে এমন সম্পদকে ’খ’ তফসীলভূক্ত চিহ্নিত করেছে। মেলান্দহ উপজেলার ’ক’ তফসীলভূক্ত জমির পরিমান ৯৩.৮৬৫ একর, এবং ’খ’ তফসীলভুক্ত জমির পরিমান ১০৩৩.৭৯ একর জমি। উল্লেখ্য, অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে জনসাধারণের সীমাহীন দুর্ভোগসহ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য ভূমিমন্ত্রণালয়ের আইন অধিশাখা-৪ এর বিগত ২১.১১.২০১৩ তারিখে ৬১৫নং স্মারকে অর্পিত সম্পত্তি আইন বিলুপ্ত করেছে।
ইউএও’র মতে ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড অতিরিক্ত দায়িত্ব। প্রতিদিনের দাপ্তরিক কাজ এবং নিস্কন্টক জমির কাজেই সময় চলে যায়। সব অর্পিত সম্পত্তির কাগজপত্র নিস্কন্টক নয়। এ জমির নামজারী/জমাখারিজে অনেক সাবধানতা, জবাবদিহিতা এবং এ কাজে বিতর্কও আছে। মেলান্দহ অর্পিত সম্পত্তির কাজে পাবলিকের প্রয়োজন থাকলেও; ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড বা ইউএনও বাড়তি ঝুঁকি নিতে চান না। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড রেজাউল করিম জানান-পাবলিক আমার কাছে আবেদন নাদিয়ে ভূমি অফিসে আবেদন কেন দিচ্ছে? যেন সিস্টেমটাই পাল্টেগেছে। অর্পিত সম্পত্তিধারী আবেদনকারীদের ফাইল প্রসেস হচ্ছে। দু’একটা দেয়াও হচ্ছে। কিন্তু ১১টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং উপজেলা ভূমি অফিসসূত্রে জানাগেছে, ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড’র আমলে এ যাবৎ কোন অর্পিত সম্পত্তির নামজারি/জমাখারিজ করা হয়নি।
মেলান্দহ দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রতন কুমার বসাক জানান-ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড হিসেবে ইউএনওরা অর্পিত সম্পত্তির জমাখারিজ/নামজারি করতে পারবেন না; এমন আইনী জটিলতা নাই। অন্যকোন কারণে থাকতে পারে। আর যদি সকল ভুক্তভোগিদের দুর্ভোগ হয়; সেটাই আইনের প্রশ্ন ওঠতে পারে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ একেএম হাবিবুর রহমান চাঁন জানান-অর্পিত সম্পত্তির কেস একটি জটিল বিষয়। আমারও বসতভিটা অর্পিত সম্পত্তির। কাজেই আমি বুঝি এটি কতদুর্ভোগের। আমার কাগজপত্র কমপ্লিট করেছি। কোন ভূক্তভোগি আমার কাছে অভিযোগ করলে খতিয়ে দেখব। আবেদনের সময় বৃদ্দির উপর গুরুত্বারোপ করে; ভুক্তভোগি, সচেতন মহল মনে করছেন-সরকারের উচিত নির্ধারিত এসিল্যান্ড কিংবা ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ডদের আন্তরিক হবার বিকল্প নেই।




