হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের ৮টি উপজেলায় দেড় শতাধিক প্রাইমারী স্কুলের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুকি নিয়ে বাহিরে ক্লাস করছে ঝড় বৃষ্টির দিনে স্কুল বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া হয় ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে এ অবস্থায় শিক্ষকরা আগামী সমাপনী পরীক্ষায় ভাল ফলাফল নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছে তবে কর্তৃপক্ষ বলেছেন মন্ত্রনালয়ে লিখা হয়েছে পর্যায়ক্রমে মেরামত ও নতুন ভবন তৈরী করা হবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ৮টি উপজেলায় ১ হাজার ২৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এর মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেরায় ১০টি, নবীগঞ্জ উপজেলায় ১২টি, বানিয়াচং উপজেলায় ৮টি, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১০টি, লাখাই উপজেলায় ১১টি, বাহুবল উপজেলায় ২৬টি, চুনারুঘাট উপজেলায় ৩৭টি, ও মাধবপুর উপজেলায় ৩৪টি প্রাইমারী স্কুলের ভবন বিভিন্ন কারনে পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে তবে অধিকাংশ স্কুকেল ভবনই সংস্কারের অভারে ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষনা করে ছাত্র-ছাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় ক্লাস করানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে কিন্তু বর্তমানে ঝড়বৃষ্টির দিন থাকায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলের সামনে কিংবা স্কুলের বাড়ান্দায় ক্লাসকরতে দেখা গেছে স্কুলের উঠানে ও বাড়ান্দায় ক্লাস করলেও বৃষ্টির সময় ক্লাস না নিতে পারায় বাদ্যতামুলক ভাবে ছুটি দেয়া হচ্ছে। ফলে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার মারাত্বক ব্যাঘাত ঘটছে আবার পরিত্যক্ত ভবনের ছাদের প্লাষ্টিক ভেঙ্গে পড়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও আহত হচ্ছে আগামী সমাপনী পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে শিক্ষকরা বাহুবল উপজেলার তুঘলি সরকারী প্রাথমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুছ আলী জানান, প্রায় ৩ বছর আগে আমাদের স্কুলের ভবনটি গণপূর্ত বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষনা করলেও আজ পর্যন্ত নতুন ভবনের কোন সুরাহ হয়নি ফলে আমার স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাস আমরা বারান্দায় কিংবা বাহিরে নিয়ে থাকি তবে সৃষ্টি আসলে বিপাকে পড়তে হয় অনেক সময় বৃষ্টির কারনে ক্লাস বাধ্যতামুলকভাবে ছুটি দিয়ে দিতে হয় আমরা বিষয়টি বার বার শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেছি তবে কোন কাজ হয়নি একই উপজেলার আব্দাপটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া খাতুন জানান, ২০১৩ সালে আমাদের স্কুলের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করলেও এখন পর্যন্ত মেরামতের কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি ফলে বৃষ্টি আসলে ছাত্র-ছাত্রীদের কষ্ট করে লেখা পাড় করাতে হয় অনেক সময় বৃষ্টি আসলেই ছুটি দিতে হয় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী এক শিক্ষক জানান, ঝড় আসলে স্কুলের শিক্ষার্থীরাসহ আমাদের অনেক ভয় লাগে কেন না যে কোন সময় ভবন ভেঙ্গে আমাদের উপর পড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে তাই সার্বক্ষনিক ভয় নিয়ে ক্লাস করতে হয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাজ্জাত হোসেন জানান, পরিত্যক্ত ভবন নির্মান ও পূনঃনির্মানের জন্য মন্ত্রনালয়ে চিঠির মাধ্যমে লিখা হয়েছে এছাড়া বৃষ্টি আসলে যাতে করে ক্লাসের কোন সমস্য না হয় সে জন্য স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে আশা করি মন্ত্রনালয় থেকে পর্যায়ক্রমে ভবন মেরামত করে দেয়া হবে




