কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলেও খুন করে, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও খুন করে। কাদিয়ানিদের খুন করে যারা হাত রাঙিয়েছে, সেই জামায়াতের সাথে তারা হাত মিলিয়েছে। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা ও জাতীয় চারনেতা হত্যায় জড়িতদের প্রতিষ্ঠিত করেছে জাতীয়তাবাদী দল। এ জন্যে আমি বলি জাতীয়তাবাদী দল হলো মানুষ মারার কল। মানুষ হত্যা করাই হলো তাদের কাজ। তিনি ২০ মে বুধবার বিকেলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও আড়িয়াল খা নদের খননকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে গিয়ে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার হাজী জাফর আলী কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওই কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, ২০১৩ সালে তারা আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমা, ককটেল মেরে, কুপিয়ে ও পিটিয়ে ৫৫ জন ড্রাইভার ও হেলপারকে খুন করেছে, ১৭ জন পুলিশকে খুন করেছে, তিনজন বিজিবি জওয়ানকে খুন করেছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের খুন করেছে। দুইজন মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করেছে। ব্যাংক কর্মচারী, হকার, রিকসা ওয়ালা, গার্মেন্ট শ্রমিককে খুন করেছে। ২০১৫ সালে পেট্রোল বোমা মেরে বাসে আগুন দিয়ে শিশু-নারীসহ যাত্রীদের হত্যা করেছে। এবারও ৩৭ জন ড্রাইভার হেলপারকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। শতশত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ খুনের দায় খালেদা জিয়াকে নিতে হবে। কারণ এই খুনের জন্য দায়ী তিনি। তিনি বিএনপিকে পেশাদার খুনি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যারা বারবার খুন করে তারা পেশাদার খুনি।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গাজীপুরের সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, নরসিংদীর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ হুমায়ূন ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক,নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদী,জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো.জিল্লুর রহমান,কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.আসাদ উল্লাহ, জেলা আওয়ামীলীগ প্রচার সম্পাদক আনোয়ার কামাল,কটিয়াদী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব আইনউদ্দিন, কাপাসিয়া উপজেলা আওযামীলীগের সভাপতি মো.শহীদুল্লাহ প্রমুখ । এসময় জেলা প্রশাসক এস,এম আলম, কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান,গাজীপুর পুলিশ সুপার হারুন অর-রশিদ প্রমুখসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
মন্ত্রী পরে পাকুন্দিয়ার থানা ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও আড়িয়াল খাঁ নদের খনন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
ডেমরা-ঘোড়াশাল-টুক-কটিয়াদী অংশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার নদ খননে ব্যয় হবে ৫৪৮ কোটি টাকা।




