শ্যামলাবাংলা স্পোর্টস : নাঈমুর রহমান, খালেদ মাহমুদ এবং হাবিবুল বাশারের ভাগ্যবরণ করতে হচ্ছে না মুশফিকুর রহিমকে। দেশের মাটিতে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার জন্যই ওই তিনজনকে অধিনায়কত্ব হারাতে হয়েছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে টসে জিতে ওই একই কাজ করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে আগামী মাসে একমাত্র টেস্টে অধিনায়কত্ব করবেন মুশফিকই। আপাতত তাকে সরানো হচ্ছে না বলেও জানান বিসিবি সভাপতি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজে মুশফিকুর রহিমের কয়েকটি সিদ্ধান্ত বেশ সমালোচিত হয়েছে। মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টে টসে জিতে তার বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তে নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরাই বিস্মিত হয়েছিলেন! তখন প্রশ্ন ওঠে, টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আট ব্যাটসম্যান কেন! কেনই বা একজন বাড়তি পেসার নেওয়া হলো না! এসব নানা কারণে মুশফিকুর রহিমের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে বিসিবি সভাপতির কথায় সে সম্ভাবনা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তবে বিসিবি সভাপতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। সম্ভবত মুশফিকের দায়িত্ব কিছুটা কমিয়ে দিতে যাচ্ছে বিসিবি। অধিনায়কত্বের পাশাপাশি উইকেটকিপিং করতে গিয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টে আঙুলে চোট পেয়েছিলেন মুশফিক। আর তাতে পুরো সিরিজে তার ব্যাটিং পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়েছে। দুই টেস্টের চার ইনিংসে মাত্র ৪৪ রান করেন তিনি। বিসিবি সভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মুশফিককে সম্ভবত নেতৃত্ব এবং উইকেটকিপিং এ দুটোর মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমার মনে হয় না, ভারত সিরিজের আগে তেমন কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। এ সিরিজে দেখি কী হয়। তবে এ বছরের শেষ দিকে হয়তো আমরা পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারি। একটা জিনিস আমরা ভালোমতোই বুঝতে পারি। একজন ক্রিকেটারের পক্ষে একই সঙ্গে অধিনায়কত্ব, ব্যাটিং এবং উইকেটকিপিং সামলানোটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। সারা দিন উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকার পর আবার লম্বা ইনিংস খেলা সত্যিই ভীষণ কষ্টের কাজ। তাই হয়তো বা পরিস্থিতির জন্যই আমরা তার কাঁধ থেকে কিছুটা দায়িত্ব কমিয়ে দিতে পারি। সেটা কীভাবে করা হবে, সে ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, যে কোনো একটা তাকে ছাড়তে হবে, অধিনায়কত্ব, না হয় উইকেটকিপিং। আর যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমরা অবশ্যই তার সঙ্গে আলোচনা করব।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের অধিনায়কত্ব পছন্দ হয়নি বিসিবি সভাপতিরও। তাই বলে এখনই মুশফিককে টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে নন তিনি, ‘আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, শেষ টেস্টে অধিনায়কত্ব এবং আমাদের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ছিল বেশ বাজে। তাই আমরা খুশি হতে পারিনি। ক্রিকেটারদের মানসিকতাই ঠিক ছিল না। মারমুখী ঢঙ্গে ব্যাটিং করে কেউ কোনো সময় দু’দিন উইকেটে টিকে থাকতে পারে না। এ বিষয়টা আমাদের ক্রিকেটারদের বুঝতে হবে।’ অধিনায়ক পরিবর্তন বিষয়ে নাজমুল হাসান বলেন, ‘টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে এ মুহূর্তে আমি একটি কথা বলতে পারি, যদি আমরা বিকল্প পেয়ে যাই তাহলে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে ভাবব। কিন্তু এ মুহূর্তে আমাদের হাতে কোনো বিকল্প নেই।’
মুশফিকের অধিনায়কত্ব নিয়ে সমালোচনা নতুন নয়। তার অতি রক্ষণাত্মক মানসিকতার জন্যই গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর ওয়ানডে নেতৃত্ব দেওয়া হয় মাশরাফি মর্তুজার হাতে। গত সেপ্টেম্বরে টেস্টে মুশফিকের ডেপুটি করা হয় তামিম ইকবালকে এবং ওয়ানডেতে সহঅধিনায়ক বানানো হয় সাকিব আল হাসানকে। মাশরাফির নেতৃত্বে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দল এখন বেশ সফল; কিন্তু তাকে টেস্টে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ চোটের কারণে ২০০৯ সালের পর থেকে ডানহাতি এ পেসার কোনো টেস্ট খেলেননি।




