শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি : শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় এক রাজাকার পরিবারের লোকজনদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ৫ সদস্য। এখানেও চলছে হাসপাতাল ছেড়ে দেওয়ার হুমকি-ধামকি। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করলেও ঘটনার ৫ দিন পরও থানায় কোন মামলা হয়নি।

জানা যায়, শ্রীবরদী পৌর শহরের উত্তর বাজারের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোরশেদুল ইসলাম মুর্শেদ পুলিশ কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী রাজাকার আব্দুল মমিন ডাক্তারের ছেলে ছালো মিয়া ও পরিবারের লোকজন হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নানাভাবে অত্যাচার শুরু করে। এক পর্যায়ে তারাা মুর্শেদ পুলিশের বিধবা স্ত্রী মেরিনাকে ছেলে-মেয়ে নিয়ে তাদের বাড়ী ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। ওই অবস্থায় ৯ মে শনিবার সন্ধ্যায় রাজাকার আব্দুল মমিন ডাক্তারের ছেলে ছালো মিয়া দলবল নিয়ে মুর্শেদ পুলিশের বাড়িতে হামলা চালায়। ওইসময় তার বিধবা স্ত্রী মেরিনা এবং প্রতিবন্ধী একমাত্র ছেলে মানিক, কলেজপড়ুয়া ছাত্রী মনি ও মুক্তা, স্কুলপড়–য়া ছাত্রী মিশুসহ ৫ সদস্যকে লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে। এক পর্যায়ে তারা ঘরে ঢুকে ঘরের মালামাল, অলংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। ওইসময় দুর্বৃত্তরা কলেজছাত্রী মনি ও মুক্তাকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। পরে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেøেক্স নিয়ে ভর্তি করে। এরপর থেকে তারা ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে ওই ঘটনার পর থেকে শ্রীবরদী এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিনুল ইসলাম, বীর প্রতীক বার জহুরুল হক মুন্সী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের দেখতে গেলেও রহস্যজনক কারণে ৫দিন পরও থানায় কোন মামলা হয়নি। এবাপারে মুক্তিযোদ্দা মুর্শেদের বিধবা স্ত্রী মেরিনা ওই ঘটনার বিচার দাবি করে বুধবার বিকেলে বলেন, রাজাকার আব্দুল মমিন ডাক্তারের ছেলেরা এলাকায় সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত। বর্তমানে তাদের ভয়ে তার পরিবারটি চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভোগছে। শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস আলম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




