শ্যামলবাংলা ডেস্ক : নিখোঁজ বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ জানিয়েছেন, সালাহ উদ্দিন ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে একটি মানসিক হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ১২ মে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা আহমেদ বলেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদ শিলংয়ের মিমহ্যানজ মেন্টাল হসপিটালে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই প্রথমে আমাকে ফোন করে বলে আপনার স্বামী আপনার সাথে কথা বলবেন। এরপর আমি তার সাথে কথা বলি।

হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘উনি বলেছেন, আমি বেঁচে আছি। মোটামুটি সুস্থ আছি।’ সেখানে দ্রুত পৌঁছে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। হাসিনা আহমেদ বলেন, হাসপাতালের এক চিকিৎসক ফোন করে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন।
তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, যাতে তিনি দেশে ফিরে আসতে পারেন সেজন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসী ঘটনার পর থেকেই আমাদের পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। আমাদের সাহস দিয়েছেন। দোয়া করেছেন। দেশবাসীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ রাতে নিখোঁজ হয়েছিলেন বিএনপির এই নেতা।
এদিকে শিলংস টাইমস সম্পাদক মানস চৌধুরী জানান, সোমবার মেঘালয়ের গলফ গ্রীণ এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় সালাউদ্দিন আটক করে স্থানীয় পুলিশ। এসময় তাকে অপ্রকৃতিস্থত দেখচ্ছিল। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সালাউদ্দিনকে আটকের খবর প্রকাশের পর মেঘালয় পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে তাকে মাসনিক হাসপাতাল থেকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করে। বিকালে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে মেঘালয় পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।
সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধান চেয়ে ১১ মার্চ রাতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গুলশান ও উত্তরা পশ্চিম থানায় যান তাঁর স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ। তবে কোনো থানাই তাঁর জিডি গ্রহণ করেনি।
সালাহ উদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি দেন তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।
রাজধানীর উত্তরার একটি বাড়ি থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ১০ মার্চ—এমন অভিযোগ করে থানা পুলিশের পাশাপাশি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন সালাহ উদ্দিনের পরিবার।




