ads

শনিবার , ৯ মে ২০১৫ | ১৩ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

PM on Rabindra 154th Photo A 8.5111হুমায়ুন কবির মৃধা, সিরাজগঞ্জ : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৪তম জন্মবার্ষিকীর জাতীয় অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’ এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টা ২৫মিনিটের সময় শাহজাদপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী ফলক উম্মোচন করার পর তিনি রবীন্দ্রজন্মজয়ন্ত্রীর উদ্বোধন ঘোষনা করেন। এসময় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মানুষের মনোজগতের কবি। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ছিলেন রাজনীতির কবি। মানুষের মানবিক মুল্যবোধ ও আত্বশক্তি জাগরনে রবীন্দ্রনাথের লেখা চিরকাল প্রেরনা জুগিয়ে যাবে বাঙ্গালি জাতিকে। আর বঙ্গবন্ধরু আদর্শ মানুষকে রাজনৈতিক ও ব্যাক্তি স্বাধীনতা নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরনা দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রদর্শনের গণতান্ত্রিকতা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার মানবিক বিশ্বায়নের স্বপ্ন। উপনিবেশবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। বাঙালীর উপর রবীন্দ্রনাথের প্রভাবের কারণে একসময় পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি গনমাধ্যমে রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করে। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী পালনের উপরও নিষেধাজ্ঞা নেমে আসে। এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সচেতন মানুষ জন্মবার্ষিকী পালন করে। ১৯১৯ সারে রবীন্দ্রনাথ জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি প্রত্যাখান করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের এই সাহসিকতা দেখে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। অথচ আমাদের দেশে কতিপয় ব্যাক্তি (খালেদা জিয়াকে উদ্দ্যেশ্য করে) হত্যাকান্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে। তারা আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। সাধারন মানুষের অধিকার হরণ করেছে। শত শত মানুষকে পঙ্গু করছে। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদেরকে বাংলার মানুষ কোন দিন ভোট দেবেনা। প্রধান মন্ত্রী বলেন, আমরা আধুনিক চিন্তা ভাবনায় দেশ পরিচালনা করছি। রবীন্দ্রনাথ আধুনিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন। জাতিকে আমাদের কাছে অনেক কিছু আসা করে থাকে। এগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য আমাদের সরকার যথা সাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির লক্ষে স্বাধীনতা সংগ্রাম করেন। দীর্ঘ ২৪ বছর সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতির স্বাধীন ভুখন্ড ও আত্ব পরিচয়ের সুযোগ করে দেন। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, আন্তর্জাতিকতাবাদ, মানবকল্যান এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ভাবনাগুলো বঙ্গবন্ধুর চিন্তা চেতনায় স্থায়ীভাবে আসন করে নিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথ যখন প্রথম শাহজাদপুরের জমিদারি দেখার জন্য এসেছিলেন, তখন তিনি কৃষকদের কথা বিবেচনা করে তৎসময়ে এক লাখ আট হাজার টাকা খাজনা মওকূফ করে দিয়েছিলেন। বর্তমান বাজারে কয়েক হাজার কোটি টাকা। তিনি ছিলেন আধুনিক চাষাবাদের প্রবর্তক। আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদের বিপ্লব তিনি পূর্ব বাংলায় ঘটিয়েছিলেন। মৎস্য চাষীদের জন্য পুকুর খনন এবং ক্ষুদ্র ঋণ বিতরন করেছিলেন তিনি। নোবেল পুরুষ্কারের সকল অর্থ ক্ষুদ্র ঋণ হিসেবে কৃষকদের মধ্যে বিতরন করেন। এলাকার সাড়ে চারহাজার বিঘা জমি গোচারণ ভূমি গাভী পালনের জন্য কৃষকদের মধ্যে দান করে দিয়েছিলেন। যার উপর ভিত্তি করেই শাহজাদপুরে দুগ্ধ খামার গড়ে উঠে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলাকায় দুগ্ধশিল্প হিসেবে মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত করণসহ এই শিল্পের বিকাশ বৃদ্ধিতে আরও সহযোগীতা করা হবে। দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করে বিদেশেও রফতানি করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথের চিন্তা, চেতনা ও দর্শনকে বাঙালির মাঝে ছড়িয়ে দেবার জন্য রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজরিত শাহজাদপুরে প্রতিষ্ঠা করা হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাণ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সকল বিভাগ চালু থাকবে। রবীন্দ্র সংষ্কৃতিচর্চা, সংগীত যোগ হবে। শাহজাদপুরে মূল ক্যাম্পাস এবং কুষ্টিয়ার শিলাইদহ ও নওগার প্রতিসরে দুটি ক্যাম্পাস হবে। শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ নির্মান করা হচ্ছে। সেখানে বঙ্গবন্ধু কর্ণার, বাংলাদেশ কর্ণার, বাংলাদেশ কর্ণার এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংষ্কৃতি কর্ণার থাকবে। পরে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যর দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলার নরিনা ঘাটে একটি সেতু নির্মানের ঘোষনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ৩১ মিনিট ব্যাপী ভাষনে রবীন্দ্রনাথকে নিয়েই উপাস্থাপিত হয়েছে। কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য স্থান পেয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। আইনের খসড়া চুড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সোমবার মন্ত্রীপরিষদের সভায় অনুমোদন করা হবে। পরে আগামী সংসদ অধিবেশনে বিল আকারে উপাস্থাপনের পর এটি পাশ করা হবে। সংষ্কৃতি মন্ত্রনালয় আয়োজিত সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, স্মারক বক্তৃতা করেন এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত সংস্কৃতিক সচিব বেগম আক্তারী মমতাজ ও ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ বিল্লাল হোসেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’ এর ভিত্তিপ্রস্তর এবং নবনির্মিত সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়, সিরাজগঞ্জ ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্প্রসারিত কার্যক্রম, ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি, সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিষ্টারের কার্যালয় ও শেখ রাসেল পৌর শিশুপার্ক এর উদ্বোধনী ফলক উম্মোচন করেন। শেখ হাসিনাকে স্বাগত ও শ্রদ্ধা জানাতে শাহজাদপুরবাসী পৌরশহরের সকল দোকান পাঠ বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর সভায় অংশ গ্রহন করে।

Need Ads

সর্বশেষ - খেলাধুলা

Shamol Bangla Ads