সিরাজগঞ্জ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদার হয়েও এ দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। তাঁর এই ভালোবাসা আরো পাকাপোক্ত হলো রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হলে শুধু এ অঞ্চলের সাধারণ শিক্ষার্থীরাই উপকৃত হবে না, বাংলার মানুষের হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চিরজীবিত হয়ে থাকবেন। শুক্রবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৪তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শাহজাদপুরে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’- এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শাহজাদপুর পাইলট হাইস্কুল মাঠে উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে একই সঙ্গে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির ভিত্তিও স্থাপন করা হয়।
শাহজাদপুর পাইলট হাইস্কুল মাঠে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৪তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাংলার মানুষের মনোজগতের কবি। তিনি জমিদার হয়েও প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশায় এগিয়ে এসেছেন। তিনিই প্রথম এ দেশে কৃষকদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রচলন করেন। একই সঙ্গে তাঁর নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পুরো টাকাই সমবায় ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ হিসেবে বিতরণ করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার বহু আগেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গীতি-কবিতাটি জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের অসাম্প্রদায়িক চেতনা আন্তর্জাতিকতাবাদ, মানবকল্যাণ ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ভাবনাগুলো বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনায় স্থায়ী আসন করে নিয়েছিল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমপি আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, স্থানীয় এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন, সিরাজগঞ্জ সদরের এমপি ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক কেএম হোসেন আলী হাসান, স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম এমরান প্রমুখ।




