রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় দিনের পরীক্ষা চলাকালে সন্দেহজনক পাঁচ শিবির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিজ্ঞান ভবনের সামনে থেকে তাদেরকে আটক করে মতিহার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আটটকৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যারয়ের ফলিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের হাবিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের জুয়েল, গনিত বিভাগের মাস্টার্সের জাফরুল, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ফরহাদ ও আরবি বিভাগের তাবারক।
এদিকে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যারয়ের শাহ মখদুম হল থেকে ভর্তিচ্ছুদেরকে মডেলটেস্ট নেয়ার সময় প্রশ্নসহ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদেরকে কোর্টে চালান করা হয়েছে। এ নিয়ে ১৩ ঘন্টার ব্যবধানে রাবিতে সাত শিবিরকর্মীকে আটক করলো মতিহার থানা পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জাননা, মঙ্গলবার সকাল ৯-১০টা পর্যন্ত ‘ডি’ ইউনিটের (বানিজ্য অনুষদ) বিজোড় রোলনম্বরধারীদের পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের পদচারণায় গোটা ক্যাম্পাস ছেয়ে যায়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিজ্ঞান ভবনের সামনে দিয়ে একসাথে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তারা। এসময় সন্দেহভাজন চলাফেরা লক্ষ্য করে চার শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশ। তবে আটক অবস্থায় পুলিশের কাছ থেকে শিবিরকর্মী পালিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরও দুইজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের পাঁচজনই এখন মতিহার থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, আটক পাঁচজনের সবাই শিবিরেরকর্মী। থানায় নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই পাঁচ শিবিরকর্মীর একজন এর আগেও পুলিশের কাছে আটক হয়েছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি ওসি।

রাবি ছাত্রলীগ নেতা ছুরিকাহত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী তরিকুল ইসলাম বাবুকে ছুরিকাঘাত করেছে দূর্বত্তরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় পুরাতুন ফোকলোর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ওই ছাত্রলীগ নেতা বিশ্ববিদ্যালয় ফলিত পাদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ওই হলে একাধিক পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে হল শাখার পক্ষ থেকে দপ্তর সম্পাদক আনিছুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুজ্জামান ইমনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী ক্যাম্পাসে ঘুড়ে বেরাচ্ছিলেন। এসময় বাবু পুরাতন ফোকলোর মাঠে এসে সবার থেকে পেছনে হাটতে থাকে। তিনি পেছনে পড়ায় বেশ কয়েকজন দূর্বত্ত এসে তাকে এলোপাথারি আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ছাত্রলীগ নেতারা তাকে উদ্ধার করে রিকশায় করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে পাঠায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল থেকে রামেকে স্থানন্তর করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামেকের অপারেশন ফিয়েটারে গুরুতর আহত তরিকুলের শরিরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রপাচার চলছে। তার ঘাড়ে, কমড়ে এবং বুকের বাম পার্শ্বে ছুরির আঘাত রয়েছে। তবে কারা এ ঘটনায় জড়িত তা বলতে পারেনি কেউ। তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছেন, হল কমিটিতে পদ পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেড় ধরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান বলেন, অন্ধকারে কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা আমার এখনও জানতে পারিনি। ক্যাম্পাসে এতো পরিমানে পুলিশ মোতায়েন করার পরও এমন একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা সত্যিই খুব দুঃখের। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোড়দার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে রাবি শিক্ষার্থীর এক বছরের কারাদন্ড
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি দায়ে এক শিক্ষার্থীকে এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জালিয়াতির দায়ে অপর দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিচু তলায় অবস্থিত পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসব শাস্তি দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এমএম সামিরুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্র জানা যায়, মাসুদ রানার প্রবেশপত্র ব্যবহরা করে রাবির হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দেবাষিশ কর্মকার ‘ডি’ (ব্যবসায় অনুষদ) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় চার্চিল নামের এক ভর্তিচ্ছুকে সহায়তা করছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিজ্ঞান ভবনের একটি হলে তারা পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই কক্ষের পরিদর্শক তাদেরকে প্রক্ট্ররিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করেন। এক বছরের সাজা প্রাপ্ত দেবাষিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হলের ৩০০ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ওই হলের ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলেও হল সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৯৮০ সালের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ৩ নম্বর ধারায় এক বছরের কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। এ ঘটনায় চার্চিলের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত আদালতে মামলা করতেও নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে শাহরিয়ার শান্ত নামের বগুড়ার এক ভর্তিচ্ছু ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে শহিদুল্লাহ কলা ভবনের ৪০২ নম্বর কক্ষে ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা দিচ্ছিলো। এসময় ওই কক্ষের পরিদর্শক বিষয়টি বুঝতে পেরে তার পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্র (ওএমআর সিট) বাতিল করে তাকে প্রক্ট্ররিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে প্রচলিত আইনে নিয়মিত আদালতে মামলা করতে নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তারিকুল হাসান বলেন, ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা দেয়া শাহরিয়ারকে সাহায্য করেছে এডমিশন প্লাস কোচিং-এর বগুড়া শাখার তুহিন নামের একজন পরিচালক । আমরা এই জালিয়াতি চক্রকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া অপর দুই শিক্ষার্থীর পেছনে কোন জালিয়াতি চক্র জড়িত রয়েছে সে বিষয়েও খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তারিকুল হাসান আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেবাষিশ কর্মকাকে বহিস্কার করা হবে কি না সে বিষয়ে পরবর্তীতে একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।




