এস এম জামাল, কুষ্টিয়া : ২০১১ সালে বাংলাদেশে তিন চাকাবিশিষ্ট ব্যাটারীচালিত ইজি বাইক বেশ গ্রহণযোগ্যতা পায়। ইজিবাইক তৈরিতে কম সময়, কম মূলধন এবং সহজ কারিগরি হওয়ায় দ্রুত জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এই ইজিবাইক। চীনে তৈরি হওয়া ইজিবাইকগুলোর দাম খুব বেশি না হওয়ায় তরুণ সমাজের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থানের উত্স হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। গাড়িগুলোর ভেতর থাকে কয়েকটি ব্যাটারি, যে ব্যাটারি চার্জ দেয়া হয় বিদ্যুতে প্রধান সরববরাহ লাইন থেকে অথবা কোনো অবৈধ সংযোগ থেকে। প্রতিটি ইজি বাইক চার্জ দেয়ার জন্য দশমিক ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় বলে জানা গেছে।

এক হিসাবে জানা যায়, সারাদেশে সড়ক মহাসড়কে চলছে ৬ লাখের উপরে ইজিবাইক। আর কুষ্টিয়াতে বর্তমানে ৩ হাজারেরও বেশি অটোবাইক চলাচল করছে প্রতিদিন। তবে কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃক তিন হাজার ইজিবাইকের তালিকা থাকলেও তার থেকে দিগুন ইজিবাইক কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করে থাকে।
ইজিবাইক চালক মনিরুল ইসলাম জানান প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪শ টাকা আয় হয়ে থাকে আবার দুপুরে রেষ্ট নিয়ে বিকেলে থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত ৪-৫শ টাকা আয় হয়। যার কারনে কারো মুখাপেক্ষি হওয়া লাগেনা। তাই নিজের ইজিবাইক চালিয়ে বেশ ভালোভাবে সংসার চালানো যায় বলে মনে করেন তিনি। তিনি জানালেন, ইজিবাইকের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২শ টাকা করে বিদ্যুৎ চার্জ খরচ হয়।
সড়কে এই ইজিবাইক চালাতে নেই তাদের কোন প্রশিক্ষন এছাড়া এসব গাড়ির কোনো লাইসেন্সও থাকে না। এতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও কুষ্টিয়া পৌরসভার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দিন দিন বাড়ছেই এ অবৈধ যানবাহন। সম্প্রতি এসব যান প্রত্যাহার করার নির্দেশও দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে কুষ্টিয়া ছাড়া পার্শ¦বর্তী অন্যান্য পৌরসভার অর্ধেক টাকায় লাইসেন্স করার সুযোগ থাকলেও লাইসেন্স করছেন না কুষ্টিয়ার ইজিবাইক মালিকগণ।
আর লাইসেন্স না করার ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব ইজিবাইকের ট্রেড লাইসেন্স কুষ্টিয়া পৌরসভা থেকে সংগ্রহ করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া সত্তে¡ও মালিকরা গাফিলতি করে লাইসেন্স সংগ্রহ করেনা। কুষ্টিয়া জেলা অটো বাইক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বাচ্ছন্দ্য ভাবে অটো চালাতে হলে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা জরুরী। জেলার সকল অটোবাইক মালিকগণ যেন শীঘ্রই লাইসেন্স সংগ্রহ করে এ ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নিবেন তিনি।
দেশে ইজিবাইক চালু হওয়ার পর অনেক পরিবেশবাদী সংগঠন এর বিরোধিতা করেছে কিন্তু সুফল বয়ে আনতে পারেনি। আর এই বিরোধিতার প্রধান জায়গাটিই ছিল সামাজিকভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতির দিক। কিন্তু বিদ্যুৎ ঘাটতির বাইরেও যে এই যানগুলো পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে তা নিয়ে কেউ কোনো সোচ্চার বক্তব্য হাজির করছে না। প্রশাসনও অনেকটাই নিশ্চুপ।
ইজিবাইকগুলোর ব্যাটারি নিজেই একটি বিশাল সমস্যা। লেড এসিড ব্যাটারি তৈরি হয় পে¬ট, সীসা এবং লেড অক্্রাইডের সঙ্গে ৩৫% সালফিউরিক এসিড ও ৬৫% পানির মিশ্রণ থেকে। এসিড-পানির এই মিশ্রণটিকে বলে ইলেকট্রোলাইট যা রাসায়নিক সংশে¬ষণ প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। আর এই সিসা এবং এসিড মিশ্রণ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে মারাত্মক ক্ষতি হয় পরিবেশ তথা প্রতিবেশির। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে একটা সময় ব্যাটারিগুলো কার্যক্ষমতা হারায়। এরপর রিচার্জ করে কোনো কাজ হয় না।




