এক). নিষিদ্ধ ব্যাকরণ
কোন নিয়তির দাবার চালে এতটা
নির্বিকার হলে তুমি?
বৈশাখী আঁচলের সেই ওমে কি
তবে কোনো নিষিদ্ধ ব্যাকরণ লুকিয়ে ছিল,
যার অপরাধে আজ এতটা বিচ্ছেদ?

দুই) কুয়াশার তুলি
তোমার মননের ক্যানভাসে আমিই তো
ছিলাম একমাত্র রেখাপাত।
অথচ কোন রহস্যময় কুয়াশায় হঠাৎ স্তব্ধ
হয়ে গেল তোমার তুলি?
এই অসমাপ্তির উত্তর আজো অলিখিত।
তিন) মহাকালের নিয়ম
প্রতিশোধের আগুনে নিজেকে পোড়ানোর
কোনো প্রয়োজন নেই;
মহাকালের নিজস্ব এক নিয়ম আছে।
বৃন্তচ্যুত পচনশীল অহংকার একদিন
নিজেই ধূলিসাৎ হয়,
তাকে সজোরে আঘাত করতে হয় না।

চার) স্মৃতির উইপোকা
নিস্তরঙ্গ জলের বুকে একাকীত্বের যে দহন,
তা ফাল্গুনের চিতাভস্মে রূপ নিয়েছে।
ভালোবাসার নগ্ন পাটাতনে আজ
স্মৃতির উইপোকারা নিঃশব্দে কামড় বসায়;
ক্ষয় হতে থাকে একদা বেঁচে থাকার উৎসব।
পাঁচ) নক্ষত্রবীথি
স্তব্ধতা মানেই তো শূন্যতা নয়,
হৃদয়ের মরুকরণও নয়।
কিছু নীরবতা আসলে আসন্ন
কোনো প্লাবনের ইশারা,
যেখানে গোপনে বোনা হয়
আগামীর নক্ষত্রবীথি।
ছয়) মহাজাগতিক মিতালী
শৈলশিখরের সুউচ্চ অহংকার
আর মাটির অতল গভীরতার
আজন্ম বিনয়-
এই দুইয়ের মহাজাগতিক মিতালিতেই
জীবন তার প্রকৃত পূর্ণতার
ভাষা খুঁজে পায়।
সাত) চেতনার রোদ
চেতনার তীব্র রোদে কর্পূরের মতোই উবে যায়
সংশয় ও ভীতি।
যেখানে লড়াইটা খাঁটি আদর্শের,
সেখানে ক্ষয়িষ্ণু আঁধার শেষে
আলোর অধিকার নিশ্চিত।
আট) নির্বাক অভিমান
তোমার সান্নিধ্যের সীমানায় আমি এক শব্দহীন,
নির্বাক অভিমানের স্মারক।
আমার নৈঃশব্দ্য কি এতটাই ধূসর
আর বেসুরো যে তুমি তার পাঠোদ্ধার করতে পারলে না?
দিকভ্রান্ত বাউলের মতো নিয়তির পথে হাঁটলেও,
অস্তিত্বের এই বাসরে তোমার দিকে
হাত বাড়ানোর ফুরসতটুকু কি আজীবন অধরাই থেকে যাবে?
নয়) শব্দের শিরায়
হে সিঁদুরে সহেলী, বিস্মরণের অতলে
তোমাকে সঁপে দেওয়া এক দুঃসাধ্য দহন।
তুমি তো আমার শব্দের শিরায় শিরায়
বয়ে চলা অনন্ত প্রাণ;
অথচ তোমাকে ছাড়া আমি এক আলোহীন,
মৃতপ্রায় নক্ষত্রের মতো মহাকাশে জেগে আছি।
দশ) অধরা ঘুড়ি
স্বপ্ন এক অদ্ভুত মায়াবী পুতুল—
কখনো ডানাহীন আকাশে ওড়ার স্পর্ধা দেয়,
কখনো বা ভাটির টানে তলিয়ে দেয় অতল অবসাদে।
নীলিমার বুকে তুমি আমার তেমনি এক উড্ডীন, অধরা ঘুড়ি;
যাকে ছোঁয়া যায় না, কেবল চেয়ে চেয়ে চেনা যায়।




