শ্যামলবাংলা স্পোর্টস : হার দিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরু হল স্বাগতিক বাংলাদেশের। সুপার টেনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৭৩ রানে হেরেছে তারা। দলে ৪ টি পরিবর্তন এনেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সবচেয়ে বড় হারের লজ্জা এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ৬৪ রানে শ্রীলংকার কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মুশফিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৭১ রান করে। জবাবে ৫ বল বাকি থাকতে ৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তৃতীয় ওভারে তামিম ইকবাল মিডঅফে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। পরের ওভারে পরপর দুই বলে এনামুল হক ও সাকিব আল হাসানকে বিদায়ে করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান ক্রিসমার সানতোকি। হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেয়া মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৩৫ রানের জুটি গড়েন দলে ফেরা মুমিনুল হক। সুনীল নারায়ণের করা দশম ওভারের প্রথম বলে সানতোকির হাতে ক্যাচ দিয়ে মুমিনুলের বিদায়ে ভাঙে স্বাগতিকদের সেরা জুটি। পরের ওভারে সাব্বির রহমান, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে বিদায় করে বাংলাদেশের বিপদ আরো বাড়ান লেগস্পিনার বদ্রি। ৫১/৩ থেকে একাদশ ওভারে ৫৯/৭ এ পরিণত হওয়ার পর মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সোহাগ গাজী দলকে একশ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতম বোলার বদ্রি। সানতোকি ৩ উইকেট নেন ১৭ রানে।
এর আগে বিস্ফোরক ক্রিস গেইলকে স্বাগতিকরা বেধে রাখলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ভীষণ মন্থর ব্যাটিং করা ডোয়াইন স্মিথ। মাহমুদুল্লাহর বলে স্কয়ার লেগে আল-আমিন হোসেনের দ্বিতীয় প্রচেষ্টার ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ৭২ রান করেন স্মিথ। ১৩তম ওভারে প্রথম বল করতে এসেই সাফল্য পান সাকিব। ওয়াইড বলে সিমন্স ক্রিজ ছাড়া মাত্র স্ট্যাম্পিং করেন মুশফিক। নিজের সেরা অস্ত্র বড় দেরিতে ব্যবহার করেছেন স্বাগতিক অধিনায়ক। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বোলারকে দিয়ে ৩ ওভার বল করিয়েছেন তিনি। এরপর রানের গতি বাড়াতে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন গেইল। মারলন স্যামুয়েলসের সঙ্গে তার ৫৩ রানের জুটি ভাঙার কৃতিত্ব রুবেল হোসেনের চোটের কারণে দলে আসা জিয়াউর রহমানের। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে স্যামুয়েলস ও আন্দ্রে রাসেলকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান আল-আমিন। তার হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেন ড্যারেন স্যামি। চতুর্থ বলে ব্রাভোকে ফিরিয়ে দেন আল-আমিন। অবশ্য তাতে বড় অবদান শর্ট থার্ডম্যানে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরা তামিমের। শেষ বলেও উইকেট পেতে পারতেন আল-আমিন। কিন্তু পয়েন্টে ঝাপিয়ে পড়েও ক্যাচটি তালুবন্দী করতে পারেননি জিয়া। তবে রান আউট হয়ে যান দীনেশ রামদিন। ৫ বলের ছোট্ট ইনিংসে তিনবার জীবন পাওয়া স্যামি অপরাজিত থাকেন ১৪ রানে। ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আল-আমিনই বাংলাদেশের সেরা বোলার। বোলাররা ভালো বল করলেও ফিল্ডারদের কাছ থেকে সহায়তা পাননি তারা। সাকিবের বলে দুটি বাই চার দিয়েছেন মুশফিক। জিয়ার বলে দুটি ক্যাচ ছেড়েছেন মাহমুদুল্লাহ সেগুলো চারও হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৭১/৭ (স্মিথ ৭২, গেইল ৪৮, সিমন্স ০, স্যামুয়েলস ১৮, স্যামি ১৪*, রাসেল ০, ব্রাভো ০, রামদিন ০; আল-আমিন ৩/২১, জিয়া ১/১৬, সাকিব ১/২১, মাহমুদুল্লাহ ১/২৭)
বাংলাদেশ: ১৯.১ ওভারে ৯৮ (তামিম ৫, এনামুল ১০, মুমিনুল ১৬, সাকিব ০, মুশফিক ২২, সাব্বির ১, মাহমুদুল্লাহ ১, জিয়া ৯, সোহাগ ১১, মাশরাফি ১৯, আল-আমিন ০*; বদ্রি ৪/১৫, সানতোকি ৩/১৭, রাসেল ২/১০, সুনীল ১/১৭)
ম্যাচ সেরা: ডোয়াইন স্মিথ।




