ads

শনিবার , ১২ মার্চ ২০২২ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

সহিষ্ণু শীতল শান্ত সুবাস

তালাত মাহমুদ
মার্চ ১২, ২০২২ ২:৩৫ অপরাহ্ণ

সেই ১৯৮২ সালের কথা। আমি তখন দৈনিক দেশবাংলা’র সাব-এডিটর এবং পল্লবীর (বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর একটি থানা) রূপনগরে ‘শতদল শিশু শিক্ষা কেন্দ্র’ নামে একটি কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ। দিনে স্কুল পরিচালনা আর রাতে পত্রিকা অফিসে দেশি বিদেশি সংবাদ সম্পাদনা ও বঙ্গানুবাদ করাই ছিল আমার রুটিন ওয়ার্ক। ‘শতদল শিশু শিক্ষা কেন্দ্র’ নামের সেই কেজি স্কুলটি আজ আর নেই। নাম পরিবর্তন হয়ে গেছে অনেক আগেই। তবে সে সময়কার স্মৃতিগুলো মনের মুকুরে আজও জ্বলজ্বল করছে।
সাড়ে তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রী আর এগারো জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের হাউজিং এস্টেট এর তিনটি আধাপাকা বাড়িতে। রূপনগর, পল্লবী, শিয়ালবাড়ি, দোয়ারিপাড়া, এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনের আশপাশের বাসিন্দাদের ছেলেমেয়েরাই ‘শতদল শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে’র শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষক-শিক্ষিকারা সবাই ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত। এসব শিক্ষক-শিক্ষিকার মাঝে জামালপুরের একজন শিক্ষিকাও ছিলেন। সন্তানহীনা ছিলেন বলে ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের ভীষণ ভালবাসতেন, আদর করতেন। শুধু তাই-ই নয়, স্কুল থেকে তিনি কোন বেতন ভাতাও গ্রহণ করতেন না। তার স্বামী ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা। বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জুলফিকার আলী ওয়াহেদ ছিলেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি। ১৯৮২-৮৩ সন পর্যন্ত মাত্র দু’বছর আমি এই কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ ছিলাম।

Shamol Bangla Ads

সায়েন্স ল্যাবরেটরীর কর্মকর্তা আমার বড়বোন তখন পল্লবীতে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। আমার ভগ্নিপতি তখনো বুয়েটের ছাত্র। বাসায় আমার বোন, কাজের বুয়া আর আমি থাকতাম। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কেজি স্কুলে ক্লাশ চলতো। মধ্যাহ্ন ভোজের পর বিশ্রাম। সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পত্রিকা অফিসে কাজ করতে হতো। অধিকাংশ রাত আমি পত্রিকা অফিসেই কাটিয়ে দিতাম। সকালে বাসায় ফিরে স্কুলে যেতাম। আমার তখন কাজ ছাড়া আর কিছুই ভালো লাগতো না। কাজের মাঝে সারাক্ষণ ডুবে থাকাটাই যেন আমার প্রতিষেধক। কাজ না থাকলে হয়তো বা আমি মারা যেতাম অথবা অন্য কোন নির্মম পরিণতির শিকার হতাম।
তখন বিপন্ন যাপিত জীবন ছিল আমার। প্রতি মুহুর্তে মৃত্যু আমাকে গ্রাস করার জন্য ওঁৎ পেতে থাকতো। আমি বুক ভরে শীতল বাতাস নিতাম আর মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতাম। এমনকি মাঝেমধ্যে চরম প্রতিবাদীও হয়ে উঠতাম। এত শক্তি, সাহস আর ইচ্ছাশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কোথা থেকে যে পেয়েছিলাম! সে অনেক কথা ! অনেক কাহিনী। বিভৎস বিভীষিকা আর উৎকট যন্ত্রণার দিনগুলো আমার এভাবেই কেটেছে। এরই মাঝে শিক্ষা, সাহিত্য আর সাংবাদিকতা একসাথে চালিয়েছি। আমি মরিনি! বেঁচে আছি আজো!! আমার আর্ত-চিৎকার কারও কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনি। হাসপাতালের মৃত্যুশয্যা থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে কত আকুল আকুতি জানিয়েছি, হায়! কেউ সাড়া দেয়নি। এখানেই থমকে গেছে মানুষের জন্য মানুষের মানবপ্রীতি; প্রিয়জনের জন্য প্রেম, ভালোবাসা, মায়া, মমতা, আদর, স্নেহ, সান্ত্বনা-প্রেরণা আর সেবাদান; সবই উচ্ছন্যে গেছে!!

আপনি কি কখনো কাউকে শ্লো-পয়েজনিং-এর নির্মম শিকার হতে দেখেছেন? আপনি কি বিষ মিশ্রিত সরবত পান করে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার কাহিনী শুনেছেন? আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সেই কাহিনী আজ অনেকের কাছেই বিস্মৃত। তখন আমার কী নির্মম নিষ্ঠুর নিঃসঙ্গ সময় কেটেছে। শুধু শিয়রে বসে মাকে কাঁদতে দেখেছি। বিসক্রিয়ায় তখন আমার পেট ফেটে নাড়িভুড়ি বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলো, বুক ফেটে কলিজা বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলো, মাথার খুলি ফেটে মস্তক বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলো; আমার সারা শরীর জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডের মতো সারাক্ষণ দাউ দাউ করে জ্বলতো। আমি সব বুঝতে পারতাম। কিন্তু বলতে পারতাম না; সেই নির্মম নৃশংস কষ্টগুলো প্রকাশ করতে পারতাম না। ডাক্তার কত্তোবার বলেছেন’-আপনি একবার শুধু বলুন-আপনার কেমন করে। আমি আপনাকে ভালো করে দেবো’। হায়রে মানুষ! কেমন সে অনুভূতি! কেমন সেই নির্মম নিষ্ঠুরতাÑ আহা! পৃথিবীর আর কোন মানুষের জীবনে এমন ঘটনা কি কখনো ঘটেছে? আমি সব বুঝতে পারতাম, কিন্তু সে অবস্থাটা বর্ণনা করতে পারতাম না? মনে হতো কে যেন আমার টুটি চেপে ধরে আছে। হ্যাঁ, তখন এমনটিই ছিল আমার যাপিত জীবন। একটা নির্দিষ্ট মৃত্যু বলয়ে আমি ঘুরপাক খেতাম। একটা অপ-শক্তির দুর্বার গতি আমাকে চুম্বকের মত টেনে হিচড়ে নিয়ে যেতে চাইতো। কিন্তু আমার প্রচন্ড মনোবল, আমার পবিত্র আত্মার সম্মোহনী শক্তি আমাকে অটল অনড় থাকতে সাহায্য করতো। মৃত্যু মৃত্যু নৃত্যলিলায় আমি তখন কঙ্কালবৎ এক জীবন্ত লাশ। চিৎকার করে কাঁদতে বড় ইচ্ছে করতো! কিন্তু হায়! আমি পারিনি! আমি কাঁদতে পারিনি!! হিংস্র হায়েনার মতো নির্মম নৃশংস যন্ত্রণাগুলোর সাথে কেবল মরণপণ লড়াই করেছি। সে দীর্ঘ ১২ বছরের লড়াই। আমার স্নায়ূতন্ত্রগুলো কতোবার যে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে চাইতো। যখনই ইচ্ছা শক্তিকে বসে রাখতে পেরেছি, তখনই ঘটতো এমন বিপত্তি। একাধারে নিদ্রাহীন ছিলাম দীর্ঘ সাতটি বছর। খাওয়া নাওয়া বিশ্রামের নিয়ম কানুনের বালাই বলে কিছুই ছিল না আমার। বুঝতাম আমার মাঝে অস্বাভাবিক আরো কিছু ঘটে গেছে। তারপরও সবকিছুতেই আমি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করতাম। অনুষ্ঠানে যেতাম-সভা সেমিনারে বর্ক্তৃতাও করতাম। সমবয়েসী সহকর্মীদের সাথে আড্ডা দিতাম। তবে আমার এমন পরিণতির কথা কাউকে বুঝতে দিতামনা। আমার অনর্গল কথা বলার অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। এ জন্য অনেকে অপছন্দ করতো। ‘শ্লো-পয়েজনিং’ এর রোগীর বুঝি এমন দশাই হয়। আহা! কত নির্মম হয় তার পারিপার্শ্বিকতা ! আপনজনরা কেউ হদিস করে না। বুঝতে চেষ্টা করে না! শুধু ত্রুটি খোঁজে ফেরে আর কষ্টের মাত্রা বাড়াতে আস্ফালন করে। তারপরও আমি বিশ্বাস হারাই’নি। বিশ্বাস যেন হারাতে নেই।

Shamol Bangla Ads

এসবই আমার স্মৃতি থেকে নেয়া। মৃত লাভার দাবানলের ক্ষত থেকে আহরণ করা, এ যেন যাদুঘরের জারের ভিতরে থাকা দৃশ্যমান মমির অতীতের পোষ্ট মর্টেম বা গবেষণার প্রতিবেদন। ‘বন্ধু’ নামক সতীর্থজনরা আমার কানের কাছে কু-মন্ত্রণা দিতেন। আর আমার সঞ্চয়, আমার বিশ্বাস খাবলে খেতেন। জীবনের সাথে যাকে শেয়ার করতে চেয়েছি, জীবনের সেই সুন্দরতম মুহুর্তগুলোতে যাকে বুঝতে শিখেছিÑ যার জন্য আমার জন্ম, কর্ম, ধর্ম, সাধনা, বাসনা আর এত স্বপ্ন-আশা-আয়োজন; জীবন সঙ্গিনীতুল্যা সেই-ই সব প্রয়োজনের আয়োজন তছনছ করে দিয়েছ্ েষড়যন্ত্র আর মিথ্যাচারে। লাঞ্ছণায় জর্জরিত ও ক্ষত বিক্ষত আমার খতিয়ান। যখন জানলাম, যখন বুঝলাম আমার এতসব প্রচেষ্টা, এতসব আয়োজন তার জন্য ছিলোনা। সৃষ্টিকর্তা তাকে আমার বাম পাঁজর থেকে সৃষ্টি করেননি। সবকিছু বিসর্জন দিয়ে তখন শুধু ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নিজের অজান্তেই গেয়ে উঠতাম ‘হীরাকে কাঁচ ভেবে নয়/ কাঁচকে হীরা ভেবেই আমি ভূল করেছি।’
১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ২রা নভেম্বর বৃধবার বিকেল ৫টায় আমাকে স্লোপয়েজনিং করা হয়েছিল। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে পরপর দু’গ্লাস সরবত পিয়ানো হয়। তবে সেটা আদৌ সরবত ছিলনা। এটি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের ঘটনা। আমি তখন স্নাতক পরীক্ষার্থী। এত বিশ^াস এত ভালোবাসার মধ্যেও মানুষ মানুষকে কিভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় (?) যে হাত দিয়ে সারাজীবন সেবা করার কথা, সেই হাতে কেন বিষের পেয়ালা? কোন্ কুচক্রী মহলের ইন্ধনে ১৮ বছরের একটি মেয়ে কিভাবে এমন জঘন্য ও ঘৃন্য অপরাধ ঘটাল?

বিষক্রিয়ার বর্জ্য আজও আমাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে! ‘নীলকন্ঠ’ আমি মৃত্যকে জয় করতে পেরেছি। শত প্রতিকুলতা আর কন্টকাকীর্ণ হাজারো অঞ্জলি পশ্চাতে ঠেলে আমি সভ্যতার বীজ বুনেছি, প্রগতির ফুল ফুটিয়েছি এবং সোনালী ফসল ফলিয়েছি। যারা প্রগতির পথে কন্টকাকীর্ণ ও প্রতিকুলতার সৃষ্টি করে, জঞ্জাল বাড়ায় মূলতঃ তারাই আজ বন্ধ্যা-নপুংসক-অস্পৃশ্য কলঙ্কিনী। আমার কোন বন্ধু নেই-শত্রুও নেই। তবে স্বপ্রণোদিত হয়ে কেউ বন্ধু ভাবলে কিম্বা শত্রু ভাবলে আমার কিছুই মনে করার নেই। আমার সামনে এখন নিষ্কন্টক পথ, উপরে মেঘমুক্ত সুনীল আকাশ। ছোট্ট শিশুর মত সবকিছু স্পর্শ করতে পারি। সে জ্বলন্ত আগুন বলুন আর বিষধর সাপের গ্রীবাই বলুন কিংবা হিংস্র ও ভয়ংকর প্রাণীর কথাই বলুন। সবকিছুই এখন আমার কাছে নিছক খেলার বস্তু। মূলতঃ আমি তেমনটিই আছি, যেমনটি ছিলাম শৈশবে। সবার কোলে কোলে আদরে চুম্বনে। ভয়ের কিছু নেই, আমার সামনে বসে কথা বলুন, দেখবেন আমি আগের মতোই কথা বলছি, হাসছি, চঞ্চল হয়ে উঠছি। মন-প্রাণ ওজার করে আপনাকে ভালোবাসছি। ক’দিনের দুনিয়া বলুত তো? এর মাঝে এত মান অভিমান করার সময় কোথায়? অন্যায় অনিয়ম আর অকল্যাণ না করলেই তো হলো। একটা সিস্টেমে আসুন। সত্য, সুন্দর, কল্যাণ আর পবিত্রতার আরাধনা করুন; দেখবেন সবকিছুই আপনার কাছে মধুর মত লাগবে। তখন দুনিয়াটা কতযে ভালো মনে হবেÑতখন রবি ঠাকুরের কন্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আপনিও গাইতে চাইবেনÑ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভূবনে’।

শিয়াল ব্যর্থ হয়ে বলে ‘আঙ্গুর ফল টক’। মানুষ বলতে যাবে কোন দুঃখে? তাহলে তো মানুষ ও শিয়ালের মাঝে কোন পার্থক্য থাকে না। ‘কর্মফলই অভিশাপ, জীবন যন্ত্রণার উৎস, ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় সুখ’Ñ এ উক্তিটির নানামুখী ব্যাখ্যা রয়েছে। কেউ এর পক্ষে কেউবা বিপক্ষে। আসলে কেউ-ই দায়বদ্ধতা এড়াতে পারে না। দু‘দিন আগেপিছে সবকিছুই জানাজানি হয়ে যায়। ক্ষমা চাওয়া নাকি মহত্বের লক্ষণ। কোন হৃদয়বান মানুষের আক্রান্ত হবার খবর আমার কাছে নেই। তবুও কারও জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে যদি মিলে যায়Ñবলবো, এই নিবন্ধটি লেখা আমার ঠিক হয়নি। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি আর আমার পাঠক একই সূত্রে গ্রথিত। তাই বলে ভুলের জন্য অনুশোচনাটুকুও করবো না? এ কেমন মানবতা? মিঠা পানির ব্যাঙ লোনা পানিতে থাকতে পারে না আবার লোনা পানির ব্যাঙ মিঠা পানিতেও থাকতে চায়না। ক্ষেত্র, আধান, উপাধান, উপকরণ আর পারিপার্শি¦কতার সাথে খাপ খাইয়ে চলার ক্ষমতা বুঝি সকলের থাকে না। বদহজম বলে তো একটা কথা আছে। আর তাই বলতে হয়- কুয়ার ব্যাঙ সাগরে গেলে ঝাপ পারে বেশি আর সাগরের ব্যাঙ কুয়ায় এসে ঝিম মেরে থাকে।

সমাজে কুফরী-জাদু-টোনা ও তাবিজ-কবজের অপচর্চা রয়েছে। এই কুসংস্কারের শিকার হয়ে কতনা জীবন বিপন্ন হচ্ছে। ভারতের কামরূপ ও কামাক্ষা যাদু-টোনা-বান তথা তন্ত্র-মন্ত্র চর্চার জন্য বিখ্যাত। তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে মানুষ বশীকরণ এবং মানুষের ক্ষতিসাধন করা প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। আমি শুধু ভুক্তভোগীই নই, এরকম অনেক ঘটনার নীরব দর্শকও আমি। বশীকরণের নামে খাদ্যের সাথে বিষাক্ত দ্রব্য খাইয়ে, তন্ত্র-মন্ত্রের সাহায্যে আর তাবিজ-কবজ দিয়ে কুফরী করে এবং মাটিতে অষৃধ পুঁতে অনেক নারী-পুরুষের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে। এমন অবৈজ্ঞানিক জঘণ্য কাজের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা গেলে কিছুটা স্বস্থি পাওয়া যেত। পাশাপাশি কবিরাজির নামে ঠক ও প্রতারক চক্রের মূখোশও উন্মোচন করা সম্ভব হতো। কাজেই বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে এর প্রতিবিধান করা আমাদের সকলের অবশ্য কর্তব্য।

প্রিয় পাঠক, হযরত ইমাম হাসান (রা:)কে তাঁর স্ত্রী জায়েদা বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছিল। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নির্মম পরিণতিকে আপনি কিভাবে দেখবেন? বিশে^র সেরা সেরা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা কবিকে রোগমুক্ত করা তো দূরের কথা তাঁরা প্রকৃত রোগই নির্ণয় করতে পারেননি। নজরুলের অসংখ্য শত্রু ছিল। তারা কখনোই চাইতোনা কবি আরো অনেক দূর এগিয়ে যান, তিনি বিশ^বিখ্যাত হোন অর্থাৎ কাজী নজরুল ইসলাম বিশে^র সেরা কবিদের সারিতে সামিল হোন; তাঁর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আর বাংলাভাষা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হোক= সাম্যের কবি, সম্প্রীতির কবি, প্রেমের কবি ও মানুষের কবি নজরুলের জয়জয়কারকে সে সময়কার স্বভাব শত্রুরা কোনভাবেই সহ্য করতে পারেনি। আমরা জানি, ভাওয়ালের রাজাকে তাঁর রাণী মেরে ফেলার জন্য বিষ প্রয়োগ করেছিল। সক্রেটিসকে হেমলক পানে হত্যা করা হয়েছিল। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নির্মম পরিণতির কথাও ভাবুন।

লেখক : বিশিষ্ট কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, শেরপুর।

(মতামত ও সমকালীন নিবন্ধে প্রকাশিত লেখার দায় একান্তই লেখকের।)

Need Ads
error: কপি হবে না!