এস.এম আজিজুল হক, পাবনা : ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাড়িয়েছেন সরকারের ৩ মন্ত্রীসহ পুলিশের আইজি ও র্যাবের ডিজি। ৬ নভেম্বর বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা ক্ষতিগ্রস্থ সাহাপাড়া ও ঘোষপাড়ার অকুতোস্থল পরিদর্শন করেন।
এসময় পরিদর্শন টিমে ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার ও র্যাবের ডিজি মোকলেসুর রহমান। পরিদর্শনকালে তারা হিন্দু পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্থরা কান্নাজড়িত কন্ঠে তাদের উপর হামলার বিবরণ তুলে ধরেন এবং তাদের জান-মালের নিরাপত্তা দাবি করলে মন্ত্রীরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ পুর্নবাসনে সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করে আশ্বস্ত করেন। পরে বনগ্রাম বাজারে অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ৩ মন্ত্রী। সমাবেশে তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করেছিল, সেই গোষ্ঠিই এ হামলার জন্য দায়ী। এদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা।
পাবনা জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এম সাইদুল হক চুন্নু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, র্যাবের ডিজি মো: মোখলেছুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি এম খুরশিদ হোসেন, র্যাব-১২ অধিনায়ক জামিল আহমেদ, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল, হিন্দু ধর্মীয় ট্রাষ্টি গণেশ চন্দ্র ঘোষ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চন্দন চক্রবর্ত্তী, সাধারন সম্পাদক বিনয় জ্যোতি কুন্ডু, আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কোরবান আলী বিশ্বাস, কার্তিক চন্দ্র সাহা, শফিকুল ইসলাম শফি প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে কটুক্তির গুজবকে কেন্দ্র করে ২ নভেম্বর একদল দুর্বৃত্ত বনগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালিয়ে ২৫-৩০ টি বাড়ি-ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করে। ওই সময় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি মন্দিরও ভাংচুর করে।




