ক্লাব বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে সবচেয়ে বড় চমকটা দিয়েছে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল। শেষ ষোলোর ম্যাচে ইউরোপের এলিট দল ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে তারা। এতে করে তারা উঠে গেছে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে। ১ জুলাই মঙ্গলবার সকালে অর্লান্ড সিটির ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৯ মিনিটে প্রথম লিড নেয় ম্যানসিটি। ওই গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে সিটিজেনরা। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে গোল করে আল হিলালকে সমতায় ফেরান সান্তোস ছেড়ে বেনফিকা হয়ে সৌদি ক্লাবে যোগ দেওয়া লিওনার্দো। পরেই আরেক ব্রাজিলিয়ান ম্যালকমের গোলে ২-১ গোলের লিড নেয় আল হিলাল। সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ৫২ মিনিটে জালে বল পাঠান। ৫৫ মিনিটে আর্লিং হালান্ড শোধ করে দেন ওই গোল। ম্যাচ ২-২ সমতায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায়। সেখানে সাবেক চেলসির সেনেগালিচ ডিফেন্ডার কালিদো কাউলিবালি হেড থেকে দারুণ এক গোল করে আল হিলালকে ৩-২ গোলে এগিয়ে নেন। কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখান। কিন্তু ফিল ফোডেন ওই স্বপ্ন স্থায়ী হতে দেননি। ম্যানসিটিতে নতুন যোগ দেওয়া রায়ান ছের্কির অসাধারণ এক পাস থেকে ১০৪ মিনিটে গোল করেন ফোডেন। কিন্তু ১১২ মিনিটে মার্কোস লিওনার্দোর করা গোল শোধ করতে না পেরে বিদায় নিয়েছে পেপ গার্দিওলার ম্যানসিটি।


এদিকে ইন্টারকে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্স। ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ব্রাজিলের ৪ ক্লাবই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল। এর মধ্যে ২ ক্লাব কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে। পালমেইরাসের পর সোমবার রাতে শেষ আটে উঠেছে ফ্লুমিনেন্স। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলা ইন্টার মিলানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রেনাতো গাউচের দল।

ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে লিড নেয় ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্স। ৩ মিনিটে জালে বল পাঠান ৩৭ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হার্মান কানো। ওই গোল শোধে মরিয়া ছিল ইন্টার মিলান। বলের দখলের সঙ্গে ভালো কিছু সুযোগও তৈরি করেছিল। গোল শোধ করতে পারেনি বরং যোগ করা সময়ে হারকিউলেসের গোলে হারের ব্যবধান বড় হয় তাদের।
ম্যাচের শুরুতে লিড নেওয়ার পরও ফ্লুমিনেন্স ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণ তুলেই খেলতে থাকে। গোল হওয়ার মতো আরও একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেও তা হারান কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড জোহান আরিয়াস। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্লুমিনেন্স রক্ষণে মনোযোগ বাড়ায়।
সুযোগ নিয়ে ইন্টার মিলানও গোল শোধের সুযোগ তৈরি করে। তারা ম্যাচে ১৬টি আক্রমণে তোলে। মাত্র ৩২ শতাংশ বলের দখল রাখা ফ্লুমিনেন্সও অবশ্য ১১টি আক্রমণ তুলে চাপে রেখেছিল ইন্টার মিলানকে। গোলের লক্ষ্যে দুই দল সমান চারটি করে শট নিতে পেরেছিল।
এর আগে ব্রাজিলের দুই ক্লাব বোটাফোগো ও পালমেইরাস নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ১-০ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে পালমেইরাস। ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর মধ্যে সেরা ফুটবল উপহার দিচ্ছিল ফ্লামেঙ্গো। শেষ ষোলোয় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে মন জয় করা ফুটবল খেলেও ৪-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে তারা।




