শেরপুরের শ্রীবরদীর শালমারা গ্রামে দাফনের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় নিজেদের বসতঘরের ভেতরেই করিম মিয়া (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে দাফন করেছে তার পরিবার। ঘরের টিনের বেড়া খুলে সেখানে কবর দেওয়া হয় আব্দুল করিম মিয়াকে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নজরে আসার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১০ শতাংশ জমিতে ওয়াকফকৃত কবরস্থানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ওই বৃদ্ধের লাশ স্থানান্তর করা হয়েছে। মৃত করিম মিয়া শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এক মেয়ে ও ছেলে ঢাকায় থাকেন, অন্য মেয়ে থাকেন স্বামীর বাড়িতে। স্ত্রী সাজেদা (৬০) বেগমও অসুস্থ।

জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর রবিবার বিকেলে মারা যান পক্ষাঘাতগ্রস্ত আব্দুল করিম। তার বসতঘরের জায়গা ছাড়া আর কোন জায়গা জমি না থাকায় এবং ওই এলাকায় কোন সামাজিক কবরস্থানও না থাকায় সোমবার সকালে বসতঘরের টিনের বেড়া খুলে ঘরের ভেতরেই কবর খুঁড়ে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
পরে ঘটনাটি শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানার পর শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদকে বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখার নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বলে ও স্থানীয় নাগরিক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা করে ৫ শতাংশ জমি জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ক্রয় করা হয় এবং স্থানীয় একজন আরও ৫ শতাংশ জমি দান করেন কবরস্থানের জন্য। সেই ওয়াকফকৃত কবরস্থানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহটি দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। সেইসাথে আব্দুল করিমের পরিবারকে জেলা প্রশাসকের তরফ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয়।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, আমাদের গ্রামে ওয়াকফকৃত কবরস্থান ছিলো না। করিম চাচার মরদেহ বসতভিটেতে দাফন করেন তারা মেয়ে, ছেলে ও মেয়ের জামাইয়ের সিদ্ধান্তে। পরবর্তীতে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের উদ্যোগে জমি কিনে একটি সামাজিক ওয়াকফকৃত কবরস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। এতে আমাদের পাড়ার লোকজনের জন্য খুব উপকার হলো। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ওয়াকফকৃত কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় নিহত করিম মিয়ার ছেলেকে আয় উপার্যনের জন্য একটি ইজিবাইক দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকবে।




