শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি মো. আবদুস ছালাম ও মোছা. রহিমার পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। তাঁদের হাতে চাল, ডাল, তেল ও মাছসহ খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে তাঁদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি আবদুস ছালামের প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। ২৫ অক্টোবর রবিবার দুপুরে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নির্দেশনায় ওই দম্পতির কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন মাছ খেতে না পারার বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের জন্য বড় মাছও কিনে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া গ্রামের আরেক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি সাজু শেখের ছোট ছেলেকে ভ্যান উপহার দিতে গিয়ে আবদুস ছালাম ও রহিমার দুরবস্থার কথা জানতে পারেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। পরে তাঁদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় ওই দম্পতিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এবার তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হলো খাদ্যসামগ্রী।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক বলেন, আবদুস ছালাম ও রহিমা দম্পতিকে এর আগেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রবিবার তাঁদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ত্রাণ তহবিল থেকে তাঁদের এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সামর্থ্য ও সুযোগ অনুযায়ী তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ইউএনও আরও বলেন, আবদুস ছালাম ইতিমধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় এসেছেন। তবে রহিমার বয়স এখনো না হওয়ায় তাঁকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। নিয়মিতভাবে তাঁদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সব সময় সম্ভব না হলেও তাঁরা নিজেরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে আসতে পারলে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সহজ হবে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর খুনুয়া গ্রামের বৃদ্ধ সাজু শেখের পরিবারের জন্য ভ্যান উপহার দিতে গিয়ে রহিমার সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তখন তিনি তাঁদের অসহায়ত্বের কথা জানান। পরে উপজেলা প্রশাসনকে তাঁদের বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়। এর আগে তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, এবার দেওয়া হলো খাদ্যসামগ্রী। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, শেরপুরের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।




