ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ম্যাচে সহজ জয় পেল ব্রাজিল। কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেছেন এস্তেভাও, পেদ্রো ও স্যামুয়েল লিনো। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে দলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন লিনো।

বড় ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভারত ভয় পাওয়ার মতো করেনি। প্রথম ২৫ মিনিটে ব্রাজিলকে বেশ কয়েকবার অস্বস্তিতে ফেলেছে তারা। ৫ মিনিটে আশিক কুরুনিয়নের তৎপরতায় প্রথম কর্নার আদায় করে স্বাগতিকেরা। ৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ভিনিসিয়াস জুনিয়র বক্সে ঢুকে জোরাল শট নিলে গুরপ্রীত সিং সান্ধু তা ঠেকিয়ে দেন। ব্রাজিলের প্রথম বড় সুযোগটাও সামলে নেয় ভারতীয় গোলরক্ষক।
১৩ মিনিটে ভারতীয় আক্রমণে আলো ছড়ান মনবীর সিং। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো থ্রু বলে দুই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যান তিনি। ১৫ মিনিটে বিজয় ভার্গেসের উঁচু করে দেওয়া বলে আবারও সুযোগ পেয়েছিলেন মনবীর। তবে পেছন থেকে এসে মার্কিনিওস শেষ মুহূর্তে বলটি সরিয়ে দেন।

২৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে ভারত নিজেদের পরিকল্পনায় ছিল। এরপরই একটি ভুলে বদলে যায় সবকিছু। ২৮ মিনিটে ডান দিক থেকে বক্সের কিনারায় উঠে বাঁ পায়ের শট নেন এস্তেভাও। গুরপ্রীত জায়গামতো থাকলেও বল তাঁর হাতে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
গোলের পর থেকেই ভারতকে চাপে ফেলে ব্রাজিল। ৩৬ মিনিটে পেদ্রোর হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ছয় মিনিট পর দ্বিতীয় গোল। এস্তেভাওর বাড়ানো বলে বক্সে ঢুকে পড়েন পেদ্রো। তাঁর শট খুব জোরাল না হলেও গুরপ্রীতের হাত ছুঁয়ে বল চলে যায় জালে। প্রথমার্ধেই ২–০ পিছিয়ে পড়ে ভারত।
বিরতির পর দুই দলই একাধিক পরিবর্তন আনে। গুরপ্রীতকে তুলে প্রভসুখান গিলকে নামান ভারত কোচ খালিদ জামিল। ব্রাজিলের হয়ে মাঠ ছাড়েন ভিনিসিয়াস জুনিয়রও। তবু দ্বিতীয়ার্ধে গোলের ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেতে থাকে ভারত। ৫৩ মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে রায়ান উইলিয়ামসের নিচু শট সহজেই ধরে ফেলেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক। ৫৫ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে মনবীর শট নিলে এবারও তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়।
৬৪ মিনিটে ভারতের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি আসে। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে রায়ান উইলিয়ামস গোলরক্ষককে কাটিয়ে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। গোললাইনের সামনে মাওরো এসে তা আটকে দেন। তিন মিনিট পর আবার সুযোগ। মনবীর ও রায়ানের দারুণ সমন্বয়ে বক্সে ঢুকে পড়ে ভারত। মনবীরকে বল বাড়িয়ে সামনে এগিয়ে গিয়েছিলেন রায়ান। ফিরতি বলে মাটিতে পড়ার আগেই তাঁর নেওয়া শটটি চলে যায় পোস্টের বাইরে।
ভারত যখন গোলের খোঁজে একটু একটু করে এগোচ্ছিল, তখনই নিজেদের আরেকটি ভুলে তৃতীয় গোল খায়। পেছন থেকে খেলা তৈরি করতে গিয়ে ৫৮ মিনিটে বল হারান বিজয় ভার্গেস। ভিনিসিয়াসের বদলি হিসেবে নামা সামুয়েল লিনো সেই সুযোগ লুফে নিয়ে বক্সের ভেতর থেকে বাঁকানো শটে প্রভসুখানকে পরাস্ত করেন। যোগ করা সময়ের পাঁচ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন লিনো।
ঐতিহাসিক এই ম্যাচে লড়াইয়ের কিছু মুহূর্ত তৈরি করেও ভারতের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং নিজেদের রক্ষণ থেকে করা ভুল। সেই ভুল শুধরে ৬ অক্টোবর আরেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে তারা।
২৮ মিনিটে এস্তেভাওর গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি। ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো। এস্তেভাওর পাস থেকে পাওয়া বল ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুর গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়।
বিরতির পর আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনেন আনচেলত্তি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে তুলে মাঠে নামান স্যামুয়েল লিনোকে। মাঠে নেমেই নিজের প্রভাব দেখাতে শুরু করেন এই ফরোয়ার্ড। ৫৮ মিনিটে বক্সের ভেতর ঢুকে গোলরক্ষকের বাঁ পাশ দিয়ে শট নিয়ে ব্রাজিলের ব্যবধান ৩-০ করেন লিনো। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ৪-০ করেন তিনি।
এই ম্যাচে চোটের কারণে ব্রাজিলের হয়ে খেলেননি রাফিনিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে ডান উরুতে চোট পাওয়ার পর পরীক্ষায় সামান্য পেশির ফোলা ধরা পড়ে। সতর্কতার জন্য তাকে খেলানো হয়নি।




