তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী উক্ত্যক্তের ঘটনায় দু’সপ্তা ধরে ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছেন। সেইসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতারের ভয়ে পলাতক রয়েছেন। এভাবে স্কুলটির শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ রয়েছেন উদাসিন। একারণে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উলেখ্য, উপজেলার ময়েনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক হুমায়ুন কবীর গত দেড় সপ্তা আগে তার ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটায়। এমন ঘটনার অভিযোগ মিমাংসা করতে গত সোমবার সকালে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সামসুল হক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক খাইরুল ইসলাম অভিযুক্ত শিক্ষক হুমায়ুন কবীরকে সঙ্গে নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে যান। সেখানে বিষয়টি নিয়ে ধামাচাপার চেষ্টা চালানো হয়। এতে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসি অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করতে ধাওয়া করলে সে পালিয়ে রক্ষা পাই। পরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক পাশের এক বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানেও গ্রামবাসি হামলা করার চেষ্টা করেন। এসময় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষকদের উদ্ধার করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে উত্তেজিত গ্রামবাসি শান্ত হয়।
এমন ঘটনা নিয়ে গত সোমবার দিবাগত রাতে স্থানীয় কাউন্সিলর দফায় দফায় বৈঠক করে মিমাংসায় ব্যর্থ হন। পরে ওই ছাত্রীর পিতাকে থানায় মামলা করতে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এমন পরিস্থিতির কারণে ওই ছাত্রী দু’সপ্তা ধরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছেন। লাজলজ্জায় ঘরে বসে তিনি দুশ্চিন্তায় ভূগছেন। এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতারের ভয়ে পলাতক রয়েছেন। স্কুলের শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী উক্ত্যক্তের ঘটনা ঘটলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রয়েছেন উদাসিন। সভ্য সমাজে এমন একটি ঘটনা ঘটলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় প্রশাসন কেনই বা রয়েছেন নিশ্চুপ এমন সব প্রশ্নের দানা বেঁধেছে সচেতন মহলে।
তবে, এনিয়ে ময়েনপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেছেন, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই ছাত্রীর পরিবারকেই এগিয়ে আসতে হবে। তার কাছে ছাত্রী ও শিক্ষক সমান বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রশিদ জানান, গতকাল বুধবার ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। তারা বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করে নেবেন বলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এনিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হক জানান, কোন জুডিশিয়াল ঘটনা থাকলে পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। এক্ষেত্রে তার কিছু করার থাকে না। তবে, পলাতক শিক্ষক কেন স্কুলে অনুপস্থিত থাকছেন এব্যাপারে তদন্ত করে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। #




