শেরপুরে কালোবাজারে ১৪ কোটি টাকা সার বিক্রির অভিযোগে কৃষি কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় ১০ বিসিআইসি ডিলারসহ ১৫ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আজ ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে বিকেলে তাদের জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান।

আসামিরা হচ্ছেন সার ডিলার মো. ফরহাদ আলী, মাজাহারুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, সুফিয়া বেগম, মরিয়ম আক্তার মুন্নী, তাপস নন্দী, সিরাজুল হক, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী ও বোরহান উদ্দিন, ডিলার পরিচালনাকারী আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. বাদশা মিয়া ও জাকির হোসেন রতন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বরাদ্দের ১৪ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলার ১৫ ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত মৌসুমে শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করলে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রি করেন। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হন।

ওই মামলায় ডিলাররা কিছুদিন আগে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে আসেন। ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিনের আবেদন করেন। পরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির উভয়পক্ষের জামিন শুনানী শেষে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ১৫ জনকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।




