ads

মঙ্গলবার , ২১ জুলাই ২০২৬ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ফলোআপ: নালিতাবাড়ীতে পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ, ব্রিজ হারিয়ে বিচ্ছিন্ন ১৫ হাজার মানুষ

অভিজিৎ সাহা, নালিতাবাড়ী
জুলাই ২১, ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বেড়ে যাওয়া চেল্লাখালী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ঢলের তোড়ে ভেসে যাওয়া বেইলি ব্রিজের কারণে নদীর দুই পাড়ের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে চলাচলকারী মানুষ।

Shamol Bangla Ads

সোমবার উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভেসে যায়। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার সময় শিশুসহ তিনজন নদীতে পড়ে গেলেও সাঁতার কেটে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি না থাকায় নদীর পানি কিছুটা কমলেও ভেসে যাওয়া ব্রিজের দুই প্রান্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। স্থানীয়রা বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনেও অনেককে কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

Shamol Bangla Ads

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। বেইলি ব্রিজটি ছিল তাঁদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। ব্রিজটি না থাকায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হতে পারছে না। একই সঙ্গে নদীর পশ্চিম পাড়ে থাকা কৃষিজমিতে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় কৃষকেরাও বিপাকে পড়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ি ঢলের কারণে এ এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ও ভোগাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জমশেদ আলী বলেন, “পানি কমতে শুরু করেছে, কিন্তু ব্রিজ না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।”

শিক্ষার্থী রিয়াজ আহম্মেদ বলেন, “ব্রিজটি আমাদের এলাকার মানুষের একমাত্র সহজ যোগাযোগের পথ ছিল। এখন বিদ্যালয়ে যেতে অনেকটা পথ ঘুরতে হচ্ছে। দ্রুত একটি বিকল্প ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদীর পানি পুরোপুরি না কমা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজে সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব নয়। তবে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সুবিধায় সাময়িকভাবে একটি নৌকার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, “নদীর পানি আরও কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি সংস্কার কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য অস্থায়ীভাবে নৌকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

Need Ads
error: কপি হবে না!