‘বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই’- এক সময় পাহাড়ের বাড়ি বাড়ি বাঁশ ঝাড়গুলোর দিকে তাকালেই বাঁশবাগানের এই কবিতার কথা মনে পরতো। কিন্তুু বাঁশবাগানের মাথার উপর দিয়ে এখন আর চাঁদ উঠে না। কারণ নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে শেরপুরের গারো পাহাড়ের বাঁশঝাড়। স্থানীয় বাঁশ ব্যবসায়ীরা জেলার ৫টি উপজেলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশ ক্রয় দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করে আসছে। ফলে একদিকে বাঁশঝাড়গুলো উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত শতশত মানুষ বেকার হয়ে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, একসময় গারো পাহাড়ের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী উপজেলাসহ নকলা ও শেরপুর সদরের ৫২টি ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি মনোরম পরিবেশে প্রচুর পরিমাণে বাঁশঝাড় ছিলো। এসব বাঁশের উপর নির্ভর করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ৫ হাজার মানুষ বাঁশশিল্পের সাথে জড়িত। ডোল, ঝাড়ি, কুলা, চালুন, চাই, ঝাঁই, মোড়া, হাত পাখা, খালই, ধাড়িসহ বিভিন্ন বাঁশজাত জাত জিনিসপত্র তৈরি করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা। বাঁশ উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্দিনে পড়েছেন বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িতরা।
বাঁশ উজাড়ের নেপথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাঁশ ও বাঁশঝাড়ের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষের অসচেতনতা, দারিদ্রতা, বাঁশঝাড় রক্ষায় প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকাসহ নানা কারণে সেসব বাঁশঝাড় দিনেদিনে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। অতীতের তুলনায় মানুষের বাড়ি বাড়ি এখন আর বাঁশঝাড় চোখে পড়ে না। যাও কিছু আছে ফড়িয়াদের থাবায় উজাড় হচ্ছে। ফড়িয়ারা গ্রামে -গ্রামে ঘুরে অধিক মুনাফার আশায় বাঁশ ক্রয় করে ট্রাক ভরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। এসব বাঁশ দেশের বিভিন্ন স্থানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে গারো পাহাড়ে বাঁশঝাড় উজাড় হওয়ার পাশাপাশি একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত আদিবাসীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের প্রায় ৫ হাজার নারীপুরুষের চরম দুর্দিন চলছে। পরিবেশবিদদের মতে, বাঁশ ঝাড় মালিকদের মধ্যে বাঁশের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বাঁশ কাটার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে গারো পাহাড়ে বাঁশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো আবুল করিম বলেন, বনের জমিতে বাঁশঝাড় ছিলো। দিনে দিনে তা বিলুপ্তি ঘটেছে।




