ads

শনিবার , ৭ মার্চ ২০২৬ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

১৭ রমজান: ঐতিহাসিক বদর দিবস

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মার্চ ৭, ২০২৬ ২:৩৯ অপরাহ্ণ

হিজরী বর্ষের পবিত্র রমজান মাস চলছে। আজ ১৭ রমজান, ঐতিহাসিক বদর দিবস। ইসলামের ইতিহাসে সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন পার্থক্যকারী এবং মুসলিম উম্মাহর বিজয় ও গৌরবের এক অনন্য দিন। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে হিজরি দ্বিতীয় সনের এই দিনে মদিনা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৭০ মাইল দূরে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ, যা বিশ্ব ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

Shamol Bangla Ads

এই যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক বিজয়ের কাহিনি নয়; বরং এটি ছিল আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস, ত্যাগ এবং ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের অধিকাংশ ছিলেন প্রায় নিরস্ত্র এবং যুদ্ধের সরঞ্জামও ছিল অতি সীমিত। মুসলিম বাহিনীর সম্বল ছিল মাত্র দুটি ঘোড়া ও ৭০টি উট; বিপরীতে কুরাইশদের ছিল ১০০ ঘোড়া, ৬০০ লৌহবর্ম ও আধুনিক সব রণসজ্জা।

Shamol Bangla Ads

তৎকালীন কুরাইশ নেতা আবু জাহেলের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজার প্রশিক্ষিত ও সুসজ্জিত সৈন্যের এই বিশাল বাহিনী রণক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছিল। বাহ্যিক শক্তি ও সামরিক প্রস্তুতির মানদণ্ডে এই যুদ্ধ ছিল এক চরম অসম লড়াই। কিন্তু মানুষের পার্থিব হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে যে মহান আল্লাহর অশেষ কুদরত ও সাহায্য বিদ্যমান, বদরের প্রান্তর তারই এক অবিস্মরণীয় সাক্ষী হয়ে আছে।

যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর রাসুল (সা.) গভীর আবেগ ও আকুতি নিয়ে মহান রবের দরবারে দোয়া করেছিলেন—‘হে আল্লাহ! আজ যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মতো আর কেউ থাকবে না।’ আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় নবীর সেই দোয়া কবুল করেন এবং ইমানদীপ্ত ক্ষুদ্র দলটিকে বিজয় দান করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা হজের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ইতিপূর্বেই নির্যাতিত মুসলমানদের আত্মরক্ষার অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই ঐশী নির্দেশনার আলোকেই বদরের ময়দানে রচিত হয় ন্যায় ও অন্যায়ের এক নতুন ইতিহাস, যা যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
মানুষের কল্পনার অতীত ফলাফল বয়ে এনেছিল এই যুদ্ধ। বদরের প্রান্তরে কুরাইশদের দম্ভ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা প্রমাণ করেন যে, প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে ইমানের মধ্যে। যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন নিহত হয় এবং আরও ৭০ জন বন্দি হয়। অন্যদিকে, মুসলমানদের মধ্যে শহীদ হন মাত্র ১৪ জন সাহাবি। এই বিজয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, মহান আল্লাহ চাইলে স্বল্পসংখ্যক মানুষ দিয়েও যেকোনো বৃহৎ শক্তিকে পরাজিত করতে পারেন।

প্রতিবছর ১৭ রমজান বিশ্ব মুসলিম অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও গৌরবের সঙ্গে বদরের সেই ঐতিহাসিক বিজয় এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে। বদর দিবস আমাদের শিক্ষা দেয় যে—সংখ্যা বা জাগতিক শক্তি নয়, বরং সত্যের পথে দৃঢ় অবস্থান এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাই প্রকৃত বিজয়ের চাবিকাঠি।

আজকের এই দিনে মুসলিম বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও আলোচনার আয়োজন করা হয়। বদরের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলামের শান্তি, সাম্য ও সহমর্মিতার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার নতুন প্রতিজ্ঞা গ্রহণের মাধ্যমেই এই দিবসের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads