শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিনা চিকিৎসায় একযুগ ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় রয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীন মেহনাজ (২০)। সে উপজেলা সদরের ভূমি অফিস সংলগ্ন ব্রিজপাড় এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার মেয়ে।

জানা গেছে, গোলাম মোস্তফার ২ ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে মেহনাজ সবার ছোট। ৩ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। দুই ছেলে দিনমজুর। তারা বিয়েশাদী করে আলাদা। ২০০৮ সালের দিকে মেহনাজ ঝিনাইগাতী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। ওইসময় মেহনাজ হঠাৎ করে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। মেহনাজের হতদরিদ্র পিতা গোলাম মোস্তফা সাধ্যমত মেহনাজের চিকিৎসা করান। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম গোলাম মোস্তফা মারা যান। ফলে মেহনাজের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসার অভাবে মেহনাজ এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। এসময় মেহনাজের মা হাওয়া বেগম মেহনাজকে শিকলে বেঁধে রাখেন মেহনাজকে। এভাবে কিছুদিন যেতে না যেতেই মেহনাজের মা হাওয়া বেগমের মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে মেহনাজের দায়িত্ব পড়ে মেহনাজের ভাই হাসানের উপর। হাসান ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর বাজারের একজন সিকিউরিটি গার্ড। হাসান প্রতিমাসে ৫ পাঁচ হাজার টাকা পান। এ টাকা দিয়েই তার স্ত্রী সন্তান ও মানসিক ভারসাম্যহীন বোনসহ তার সংসার চালাতে হয়। তাই ইচ্ছে থাকলেও অর্থের অভাবে সে বোনের চিকিৎসা করাতে পারছে না। মেহনাজের ভাই হাসান জানান, বিগত ১৩ বছর ধরে বিনা চিকিৎসায় মেহনাজকে এভাবেই শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে করে তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা নিতে পারছেন না।

এলাকাবাসী বলেন, মেয়েটি সু-চিকিৎসা পেলে হয়তো সুস্থ হতো। কিন্তু তার বড় ভাইয়েরা অত্যন্ত গরিব। দিন আনে, দিন খায়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে না পারায় মেহনাজ সুস্থ্য হচ্ছে না।
ওই অবস্থায় হাসান তার বোনের চিকিৎসার জন্য প্রশাসনসহ দেশের দানশীল বিত্তবানদের প্রতি সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। আর্থিক সাহায্যে পাঠাতে যোগাযোগ করতে মেহনাজের ভাই হাসানের মোবাইল (০১৯০৮-২৩৪৮৮১)।




