বৈমাত্রেয় ছোট ভাইয়ের দখলে থাকা জমিতে সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক ঘর উঠিয়ে দখলে নিতে চেয়েছিল বৈমাত্রেয় বড় ভাই মোহাম্মদ আলী। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘর তৈরির মালামাল জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রেখে চলে আসে। পরে দখলদার মোহাম্মদ আলী তার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে ছোট ভাইয়ের একটি ভিটিপাকা টিনসেড ঘর গুড়িয়ে ঘরে থাকা ব্যবসার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় প্রকাশ্যে। শুধু তাই নয়, ছোট ভাই অছিম উদ্দিন ওরফে লাল চাঁনকে হত্যার হুমকী দেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৬ মে মঙ্গলবার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পশ্চিম কলসপাড় বাজারে ওই ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই গ্রামের সুরুজ আলী বড় স্ত্রীর গর্ভের চার ছেলে ও ছোট স্ত্রীর গর্ভের দুই ছেলে ছাড়াও কন্যা সন্তান রেখে মারা যান প্রায় দুই যুগ আগে। এরমধ্যে বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী ও ছোট ছেলে লাল চাঁন এ দুই বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মাঝে কলসপাড় বাজারস্থ একখন্ড জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গত কয়েক বছর আগে ভাই-বোন সবাই মিলে আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে ছোট ভাই লাল চাঁনকে ওই জমিটির দখল বুঝিয়ে দেন। এরপর একটি টিনসেড ঘর তৈরি করে ব্যবসার জন্য ভাড়াও দেন লাল চাঁন। গত ৭ মে লাল চাঁন ওই জমিতে আরও একটি টিনসেড ঘর নির্মাণ শুরু করলে বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বাধা দেয়। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ওইদিন রাতেই মোহাম্মদ আলী তার ছেলে-কন্যা নিয়ে ছোট ভাই লাল চাঁনের নির্মাণাধীন ঘর ভেঙে মালামাল লুট করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একইসাথে ওই জমিতে রাখা স্যানিটারি সামগ্রী লুট ও ভাংচুর করা হয়।
এছাড়াও পাশে থাকা ছোট ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাজী সুরুজ আলী ট্রেডার্সের তালা ভেঙে শাটার খোলে কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে। প্রমাণ নষ্ট করতে খুলে নিয়ে যায় সিসি ক্যামেরার ডিভিআরটিও। পরদিন এ নিয়ে লাল চাঁন নালিতাবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্তরা ১৫ মে আদালত থেকে জামিনে আসে। পরে গত মঙ্গলবার সকালে ছোট ভাইয়ের দখলে থাকা ওই জমিতে ঘর তুলতে যান মোহাম্মদ আলী। এসময় লাল চাঁন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে অবৈধ দখল বন্ধ করে ঘর নির্মাণের মালামাল জব্দ করে এবং তা স্থানীয় ইউপি সদস্য সাত্তারের জিম্মায় রেখে আসে।
এদিকে পুলিশ চলে আসার কিছুক্ষণ পরেই মোহাম্মদ আলী তার দলবল নিয়ে লাল চাঁনের একটি টিনসেড ঘর প্রকাশ্যে গুড়িয়ে দিয়ে ঘরে থাকা ব্যবসার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় ভুক্তভোগী লাল চাঁন থানায় গিয়ে বিষয়টি অবহিত করে। এদিকে এমন পরিস্থিতে ছোট ভাই লাল চাঁন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গেলে মোহাম্মদ আলী তাকে হত্যার হুমকী দেওয়ায় জীবন নাশের শঙ্কায় রয়েছেন লাল চাঁন। বন্ধ রয়েছে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সাবেক দুইবারের ইউপি সদস্য আকবর আলী জানান, প্রথমে ওই জমিটি মোহাম্মদ আলী ভোগ করতো। পরে ভাই-বোনেরা মিলে ভাগ-বাটোয়ারা করে লাল চাঁনকে দেয়। বর্তমানে লাল চাঁন ওই জমিতে ঘর তুলে ভাড়া দিয়ে আসছিল। গত ৭ মে লাল চাঁন আরেকটি ঘর উঠাতে গেলে মোহাম্মদ আলী বাধা দেয়। মঙ্গলবার ওই জমি মোহাম্মদ আলী নিজে দখলে নিতে চাইলে পুলিশ বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। এরপর কিছুক্ষণ পর মোহাম্মদ আলী লাল চাঁনের ঘরটি ভেঙে নিয়ে যায়।
বর্তমান ইউপি সদস্য আব্দুছ ছাত্তার জানান, মঙ্গলবার সকালে মোহাম্মদ আলী লাল চাঁনের জমিতে ঘর তুলতে গেলে পুলিশ এসে বাধা দেয় এবং ঘর নির্মাণের মালামাল জব্দ করে আমার জিম্মায় রেখে যায়। এরপর পুলিশ চলে গেলে লাল চাঁনের ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগী লাল চাঁন বলেন, আমাকে বাজারে যেতে দিচ্ছে না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে দিচ্ছে না। সৎ ভাই মোহাম্মদ আলী আমাকে মেরে ফেলতে হুমকী দিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু প্রতিকার চাই। তবে বৈমাত্রেয় বড় ভাই মোহাম্মদ আলী ওই জমি নিজের বলে দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, সকালে ঘর মোহাম্মদ আলী তুলতে গেলে পুলিশ গিয়ে বাধা দেয় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পরবর্তীতে লাল চাঁনের ঘর ভেঙে ফেলার কোন খবর আমি পাইনি।




