শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ি এলাকায় হাতির আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে গিয়ে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে করিম মিয়া (৩২) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় কবির মিয়া (১৮) নামে অপর এক কৃষক গুরুতর আহত হয়েছে। ১৪ এপ্রিল শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার ঝুঁলগাও এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল করিম ঝুলগাও গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। আর আহত কবির একই গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোররাতে শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের জুলগাওয়ে তিনটি বন্য হাতি ফসলি জমিতে নেমে ধান খেতে থাকে। ওইসময় কৃষক আব্দুল করিম ও কবিরসহ স্থানীয় ৭/৮জন কৃষক মিলে হাতি তাড়াতে যায়। পরে হাতি তাদের উল্টো আক্রমণ করে। ওইসময় হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কৃষক করিম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। আর অপর কৃষক কবির মিয়া গুরতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত কৃষকের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে প্রতি বছর ধান পাকার সময় বন্যহাতির তাণ্ডব বেড়ে যায়। হাতি তাড়াতে কৃষকরা রাত জেগে ধান ক্ষেত পাহারা দেয়। শুক্রবার রাতে করিমসহ কয়েকজন তাদের ধান ক্ষেত পাহারা দিচ্ছিল। ভোররাতের দিকে এক দল বন্য হাতি পাহাড় থেকে ঝুঁলগাওয়ের লোকালয়ে নেমে এসে ধান ক্ষেত নষ্ট করতে থাকে। ওইসময় হাতি তাড়াতে গেলে কবির মিয়া নামে একজনকে হাতি শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে মাটিতে আছাড় দিতে থাকে। তাকে বাঁচাতে করিম এগিয়ে গেলে তাকে আরেকটি হাতি শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে।

ওই ঘটনায় শ্রীবরদী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিহত ও আহত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রীবরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুস।




