শেরপুরের নকলায় মুন্নি নামে এক হিজড়ার চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর বুধবার রাতে নকলা পৌরশহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন চত্বরে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়। শেরপুর জেলা হিজড়া কল্যাণ সংস্থা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শেরপুর হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি সরকার (২৬), সহ-সভাপতি মোর্শেদা বেগম (৩৫), সাধারণ সম্পাদক মায়া রাণী (৩০), কোষাধ্যক্ষ সোনালী বেগম (৩০), সদস্য রূপসী বেগম (২৮), জমেলা বেগম (৩২), রিয়াজ হোসেন (৫০) প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তাগণ জানান, সরকার আমাদেরকে পুনর্বাসন করার জন্য শেরপুর সদর উপজেলার আন্ধারিয়া সুতিরপাড় এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সেখানে আমরা ৪০ জন হিজড়া শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। আমরা হাঁস-মুরগী, গবাদিপশু পালনসহ বিভিন্ন ধরণের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা চাঁদাবাজি করে মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না।

কিন্তু মুন্নি নামে একজন হিজড়া সরকারি আবাসনে ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পরেও সে আবাসনে থাকে না। বর্তমানে সে নকলা পৌরসভার ফেরুষা মহল্লায় ভাড়া করা বাড়িতে থেকে বহিরাগত কিছু হিজড়াকে নিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করছে। যা আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
মুন্নি হিজড়ার চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় সম্প্রতি সে (মুন্নি) আমাদের সরকারি আবাসনের এক হিজড়াকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে চাঁদা দাবি করে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অর্ধশতাধিক হিজড়া মুন্নিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মুন্নি জানান, আমার বিরুদ্ধে শেরপুর হিজড়া কল্যাণ সংস্থার আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমার দলের কেউ চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়। তাঁরা আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব করছে।
এ ব্যাপারে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয় অবগত হয়েছেন। আমরা খুব তাড়াতাড়ি দু’পক্ষকে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।




