কথা ছিল,অনেক কথা ছিল
যেমন কথা ছিল শহীদুল্লাহর সাথে তসলিমার
বৈশাখী মেঘে ঢাকবে আকাশ
পালকের পাখিরা নীড়ে যাবে
নির্মম ক্লেদে মাথা রাখবে পরস্পর
মধ্যাহ্ন,অপরাহ্ণ আরও কিছুটা প্রহর কেটে যাবে।

কথা ছিল,অনেক কথা ছিল
যেমন কথা ছিল সুনীলের সাথে বরুণার
যেদিন বরুণাকে সত্যিকারে ভালোবাসবে
সেদিন বরুণার বুকেও এ-রকম আতরের গন্ধ হবে
ভালোবাসার জন্যে হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছিলো সুনীল
এখনও বরুণার বুকে শুধু মাংসেরই গন্ধ।
কথা ছিল,অনেক কথা ছিল
যেমন কথা ছিল হুমায়ুনের সাথে গুলতেকিনের
ক্লান্ত,ঘর্মাক্ত,বিমূর্ত হুমায়ুন
নীড়ে ফিরেই গুলতেকিনের ললাটে চুমোয় চুমোয় সজীব হবে
মানুষ কথা দেয়
কথা দেওয়ার ঐ মুহূর্তটাকে উপভোগ করার জন্যে
মানুষ কথা দেয়
কথাগুলোকে নিয়ম করে না রাখার জন্যে।

কথা ছিল
সন্ধ্যা ভ্রমণে আমরা শহরের রাস্তায় নিয়ন আলোয় গা ভেঁজাবো
তোমার নিপুণ হস্তের চম্পল অঙ্গুলির উপর
স্পর্শ করবে আমার অনামিকা অঙ্গুলি
বুক ভর্তি তুমি
আর চোখ ভর্তি স্বপ্ন নিয়ে আমরা বাড়ি ফিরবো
কথা ছিল,তুমি রাগ করলে
আমি রাগ ভাঙ্গাবো
আর আমি রাগ করলে
তুমি চলে যাওয়ার ভয় দেখাবে
সমস্তটা প্রহর ঝগড়া,খুনসুটি
অতঃপর রাতের আধারে একসাথে নিঃশ্বাস নেওয়ার উৎসব।
কথা ছিল
জীবতত্ত্বের হৃদযন্ত্র অথবা অঙ্গব্যবচ্ছেদ মুখস্ত করতে করতে যখন তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়বে
তখন আমি
জীবনানন্দের রুপসী কাব্য শুনাবো
আর তুমি
আমার কুলে মাথা রেখে গভীর প্রশান্তিতে নিদ্রার পুষ্কুরিণী অবগাহনে যাবে।
কথা ছিল,তোমায় আমি
স্বপ্নপুরীর ঝিঁল দেখাতে নিয়ে যাবো
যেখানে পদ্মফুলের মাথায়
সাপ আর ব্যাঙ খেলা করে।
কথা ছিল,
কোন এক ক্লান্ত দুপুর শেষে
সাজেক ভ্যালিতে মেঘ ছুতে যাবো আমরা
আমাদের পাদদেশের নিম্নবিন্দুতে পড়ে থাকবে আধুনিক সভ্যতা
প্রচণ্ড প্রফুল্লতায়
কয়েক খণ্ড মেঘের পিছনে ছুটবে তুমি
আর আমি
দু’চোখ ভরে মেঘের সাথে মায়াপরীর খেলা উপভোগ করবো।
কথা ছিল
নিপুণ শিল্পে কাপড় পরতে শিখবে তুমি
আর আমি বিচারক হয়ে
ব্যবহারিক পরিক্ষা নিব তোমার
তুমি কাপড় খুলতে খুলতে দেখবে
নিজেকেই খুলে ফেলছো অবলিলায়
আমি কামুক দৃষ্টিতে
কতক্ষণ তাকিয়ে থাকবো
আর তুমি
লজ্জ্বায় লাল হতে হতে চুপসে যাবে।
কথা ছিল
তুমি আমার সাধন সঙ্গিনী হবে
তোমার মধ্যে আমি
রাধারুপ অবলোকন করবো
যেমন অবলোকন করেছিলো চণ্ডিদাস
রামীর মধ্যে রাধারুপ
আমি ব্রাহ্মচার্য চর্চায়
নিজের কামরুপ সঁপে দিব সদর্পণে
আর তুমি বস্রহীনভাবে
আমায় বশিভূত করার কৌশল চর্চা করবে
আমি ক্রমশই
পুরুষ হতে কামুক হওয়ার ফাঁদে পা বাড়াবো
আর তুমি
তোমার নারীসত্ত্বা দিয়ে কামুক হতে আমায় প্রেমিক করে তুলবে।
কথা তো ছিল অনেক কিছুই
কথা ছিল দীর্ঘ বিরহের পর মাঝরাতে আচমকা মিলন
কথা ছিল
সফেদ সাদা দেওয়ালের
কথা ছিল
মেঝের আল্পনার
কথা ছিল
যত্নের মাঝে মাঝে ত্রুটির
কথা ছিল
খোঁটা দিয়ে সুদসহ আদায় করবার।
অথচ কথারা আজ মৃত
সেই কথাদের কবরের উপরে এপিটাফে বড় হরফে
লিখা-
“”আমরা মৃত, দয়া করে আমাদের নিয়ে প্রমোদ খেলা খেলবেন না””।




