শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের আটজনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জালাল উদ্দীন (৬৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত রবিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিকেলে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমেশ্চুড়া জোড়ার পাড় গ্রামের প্রতিপক্ষ নই মিয়া, তাঁর ছেলে শফিকুল ও তাঁদের লোকজন কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে জালাল উদ্দীনসহ তাঁর পরিবারের আটজনকে।
ওইসময় মারাত্মকভাবে আহত হন জালাল উদ্দিন (৬৫), তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০), তাদের মেয়ে জামেনা খাতুন (৩৩), ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৮), মনির হোসেন (২৫), এরশাদ আলী (২২), ছেলে আব্দুর রশিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩০) এবং মনিরের পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২)।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জালাল উদ্দিনের জামাতা আন্তাজ আলী আহতদের প্রথমে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। এসময় জালাল উদ্দীনসহ চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিদের মধ্যে দু’জনকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।

এদিকে আহত জালাল উদ্দীনের অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে গত ৬ নভেম্বর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে এ ঘটনায় জালাল উদ্দিনের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে।
মঞ্জুরুল ইসলাম (২৮) বলেন, নই মিয়া আমাদের বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছিল। গত ৩ নভেম্বর তারা আমার বৃদ্ধ বাবা, মা, ভাই, বোন ও ভাবিদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় আমার বাবা ১০ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ঢাকা মেডিকেল এ মারা গেছে। আমি নই মিয়া গংদের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ঘটনার পরপরই কয়েকজনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছিল। যেহেতু একজন মারা গেছে এখন তদন্তকারী কর্মকর্তা, ওসিসহ আমরা বসে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।




