শেরপুরের নকলায় এক ইউপি সদস্য ও তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি এবং শ্বশুরের ৩ ছেলের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী অসহায় ৪টি পরিবারের বসতভিটা জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এজন্য তারা ওই পরিবারগুলোকে মিথ্যা মামলায় হয়রানিসহ নানাভাবে হুমকী-ধমকী দিচ্ছেন।ঘটনাটি ২ নম্বর নকলা ইউনিয়নের ধনাকুশা গ্রামের।বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী বিচার চেয়ে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ ও এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা যায় ধনাকুশা মৌজায় এক চিলতে জমিতে পরিবারপরিজন নিয়ে বাস করেন দিনমজুর ইদ্রিস আলী, আব্দুল কদ্দুস, শাহজাহান আলী ও জামেলা বেগম। এদের পাশেই বাস করে আবুল হাসেমের পরিবার। আবুল হাসেম, স্ত্রী জোসনা বেগম, ৩ ছেলে মনির হোসেন, হাবিল উদ্দিন ও কাবিল উদ্দিন এবং মেয়ের জামাতা ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই ৪টি পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছেন। এজন্য তারা নানা ভয়ভীতি, জুলুম, নির্যাতনসহ তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
ইদ্রিস আলী জানান বসতভিটা ছাড়া আমাদের আর কোন জায়গাজমি নেই। ওই বসতভিটা আমাদের পূর্বপুরুষদের। পাশের বাড়ির আবুল হাসেম ও তার পরিবার এবং আবুল হাসেমের মেয়ের জামাতা বিল্লাল হোসেন মেম্বার আমাদেরকে ওই বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করছে। বিল্লাল হোসেন মেম্বার হওয়ার পর থেকে আমাদের উপর নির্যাতন বেড়েছে। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে অর্থ কষ্টের কারণে আমাদের পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হয়। বসতভিটা থেকে জোর করে আমাদের উচ্ছেদ করে দিলে পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব ভেবে পাচ্ছিনা।

আবুল হাসেম বলেন জমি নিয়ে আদালতে মামলা করেছি। কাগজ এনে দেখালেই বুঝতে পারবেন জমি কার।
ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন জানান আমার শ্বশুর আবুল হাসেম দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমাকে মিথ্যা অভিযোগে জড়ানো হচ্ছে।
নকলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ধনাকুশা গ্রামের আব্দুর রহমান চানু বলেন ইদ্রিস আলী, আব্দুল কদ্দুস, শাহজাহান মিয়া ও জামেলা বেগম গরীব মানুষ। আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি সামাজিকভাবে সমস্যাটি সমাধানের। আবুল হাসেমের পরিবার এতে রাজি হয়না।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান সুজা বলেন আদালত একবার আমাকে মামলার তদন্তভার দিলে আমি কয়েকবার আবুল হাসেমকে নোটিশ করেছি। কিন্তু সাড়া দেয়নি। বিতর্কিত জমিটি ইদ্রিস আলী, আব্দুল কদ্দুস, শাহজাহান আলী ও জামেলা বেগমের ভোগদখলে আছে।
বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুবকর ছিদ্দিক ফারুক জানান কাগজপত্র দেখে সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করে সমস্যার সমাধান করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আবুল হাসেমের সহযোগিতা না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী বর্মকর্তা (ইউএনও) বুলবুল আহমেদ বলেন, এ সংক্রান্তে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




