ads

শনিবার , ৮ অক্টোবর ২০২২ | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শরৎ’এ সাড়া ফেলেছে শেরপুরের কাশবন: বিভিন্ন স্পটে দর্শণার্থীদের ভিড়

‘চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা, একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা’- এ হলো শরৎ ঋতুকে নিয়ে বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকেুরের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার অংশ বিশেষ। আবার বরেণ্য কবি ফররুখ আহমদ তার ‘বৃষ্টির গান’ শিরোনামে কবিতায় বলেছেন, ‘বৃষ্টি এলো কাশবনে, জাগলো সাড়া ঘাসবনে, বকের সারি কোথায় রে, লুকিয়ে গেলো বাঁশবনে’। এছাড়াও রোমান্টিকতার আদলে কবি নির্মলেন্দু গুণ যে কাশফুলের বন্দনা করেছেন তা হলো, ‘ইচ্ছে করে ডেকে বলি: ওগো কাশের মেয়ে, আজকে আমার চোখ জুড়ালো তোমার দেখা পেয়ে, তোমার হাতে বন্দি আমার ভালোবাসার কাশ, তাই তো আমি এই শরতে তোমার কৃতদাস।’ সেই কাশফুলের ঋতু শরৎ এখন প্রকৃতিতে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলার মতো শরতের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ কাশফুলেও ছেয়েছে প্রকৃতি। শেরপুরের বিভিন্ন অঞ্চলও ছেয়ে গেছে কাশফুলে। বিশেষ করে শরতের কোমলতার ছোঁয়ায় নদীর পাড়গুলো যেন পরিণত হয়েছে কাশফুলের সাম্রাজ্যে। প্রকৃতিপ্রেমীরাও প্রতিদিনই ভিড় করছেন কাশবনে। আনন্দঘন মুহূর্তগুলো সকলে করছেন ক্যামেরাবন্দি। শরতের আগমনে প্রকৃতি ভালবাসার এক অপরূপ সৌন্দর্যে মেতে উঠে। শরতের আকাশ আমাদের দৃষ্টিকে করে মুগ্ধ, মনকে করে ফুরফুরে। সাধারণত নদী তীর এবং পানির কাছাকাছি ফাকা বালুময় জমিতে প্রচুর কাশফুল ফুটে। শরতকাল অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে সাধারণত কাশফুল ফুটে। তাই কাশবন বেড়ানোর জন্যে উপযুক্ত সময় তখনই। নীলাকাশে ভাসমান সাদা মেঘগুলো হয়ে যায় পেঁজা তুলোর মতো। শুভ্র-মায়াবী মেঘের ভেলা ফুরফুরে বাতাসে উড়তে থাকে দিগন্ত থেকে দিগন্তে। মেঘের ভেলায় চড়ে উড়ে যেতে চায় স্বপ্নপিয়াসী মন দিগন্তজোড়া নীলাকাশে যখন পাখ-পাখালি উড়ে যায় খেয়ালি পাখনা মেলে তখন আমাদের নয়ন জুড়িয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে শরতের আকাশই এ ঋতুর সৌন্দর্য বাংলার প্রকৃতিতে নেমে আসে।
৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, শেরপুর শহরের বাটারাঘাট, কসবা কাঠগড়, সদরের হরিণধরা, নকলা উপজেলার নারায়ণখোলা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়সহ বিভিন্ন নদ-নদীর আশপাশ এখন ভরে উঠেছে কাশফুলে। নীল আকাশের নিচে এ যেন সাদা মেঘের ভেলা। নাগরিক কোলাহল থেকে একটু মুক্তি পেতে তাই প্রিয়জনদের নিয়ে কাশবনগুলোতে প্রতিদিন ভিড় জমছে দর্শণার্থীদের। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই নদীর পাড়ের কাশবনগুলোতে ভিড় করতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বেলা গড়ালে ভিড় একটু কমলেও বিকেল থেকে যেন মানুষের ঢল নামে কাশবনে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি বছর কাশফুল ফুটলেও এবার কাশফুলের উপস্থিতি গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর সেই কাশফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতেই দলে দলে ছুটে আসছেন মানুষেরা। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দুপুর গড়ালেই মানুষ যেন উপচে পড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছিলেন শিলা। তিনি বলেন, প্রতিদিনের যে চাপ, তাতে একঘেয়েমি চলে আসে। একটু মুক্ত বাতাস পেলে ভালো লাগে। তাই একটু ছুটে এসেছি। কাশফুল দেখে খুব ভালো লাগছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে কাশফুল ফুটেছে। সবগুলো জায়গাই ঘুরে দেখছি।
এদিকে শহরের কবির মিয়া কাশবনের পাশে একটি দোকান দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে কাশবনে অনেকে ঘুরতে আসে। অনেক মানুষ আসে। তাই এখানে একটি দোকান দিয়েছি। বিকেলে দোকান খুলি। বেচা-কেনা ভালোই হচ্ছে। কাশফুল যতদিন থাকবে, ততদিন কিছু বাড়তি উপার্জন আসবে।

Shamol Bangla Ads

বীথি আক্তার নামে এক দর্শনার্থী বলেন, আমার শখ ঘোরাঘুরি করা। আমি ঘুরতে ভালোবাসি। কাশফুল সাধারণত গ্রামেই বেশি দেখা যায়। কিন্তু এখন শহরেও বিভিন্ন স্থানে কাশফুল ফুটছে। প্রতিদিনের ক্লান্তি কাটাতে এসব জায়গায় এসে একটু প্রশান্তি পাওয়া যায়। এই জায়গাগুলো আমাদের বিনোদন স্পট হিসেবেও কাজ করছে। খুবই চমৎকার পরিবেশ। সবাই ঘুরতে আসছে। বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছবি তুলছে, সুন্দর সময় কাটাচ্ছে।

Need Ads