চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ফায়ার ফাইটার রমজানুল ইসলাম রনির বাড়ি শেরপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ৭ জুন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রনির নিজ গ্রাম শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া বালুরঘাট এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার শেষে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেকের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাকে গার্ড অব অনার ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এরপর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় রনির আত্মীয়-স্বজনসহ সহস্রাধিক স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় রনির লাশ নিয়ে শেরপুরে তার নিজ এলাকায় পৌঁছেন মা কামরুন্নাহার বেগম, চাচা আবুল কাশেম, ছোট ভাই তারিকুল ইসলাম ও রনির স্ত্রী রূপা আক্তার। রনির লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছার পর সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে চারদিকের পরিবেশ। রনিকে একনজর দেখতে স্থানীয় জনগণের ভিড় জমায় তার বাড়িতে।

এদিকে শেরপুরে বিচারাধীন একটি হত্যা মামলায় জেলহাজতে থাকা নিহত ফায়ারফাইটার রমজানুল ইসলাম রনির বাবা মো. আক্রাম হোসেন আঙ্গুর মিয়া সোমবার দুপুরে সাত দিনের অন্তবর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। ছেলের লাশ দেখে আহাজারি করতে করতে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের শীতলপুর এলাকায় বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় খবর পেয়ে অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভাতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সীতাকুণ্ড দমকল বিভাগে কর্মরত শেরপুরের ছেলে ফায়ারফাইটার রমজানুল ইসলাম রনি। রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার স্ত্রী ও সহকর্মীরা তার লাশ শনাক্ত করেন।




