প্রশাসন আর সহযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চির বিদায় নিয়েছেন শেরপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ বেতারের শেরপুর নগর প্রতিনিধি ও শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস তালাপতুফ হোসেন মঞ্জু (৬৯)।

২৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় শহরের শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে তাকে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহনাজ ফেরদৌস নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
এর আগে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের তরফ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। পরে নামাজে জানাযায় তার স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন শেরপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নূরুল ইসলাম হিরু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান আকন্দ, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, মরহুমের একমাত্রপুত্র দীপ্ত প্রমুখ। পরে তাকে স্থানীয় চাপাতলি পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে সর্বত্র অবিচল ও সোচ্চার থাকা তালাপতুফ হোসেন মঞ্জুর মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকালা) আসনের সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এ.কে.এম ফজলুল হক চাঁন, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার, আজকের পত্রিকার সম্পাদক ড. গোলাম রহমান রতন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বাদল, ডিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সংবাদ সারাবেলার সম্পাদক আব্দুল মজিদ, শেরপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম কিবরিয়া লিটন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি দেবাশীষ ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক কানু চন্দ্র চন্দ, শেরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মানিক দত্ত, সাধারণ সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জল, শ্যামলবাংলা২৪ডটকমের উপদেস্টা সম্পাদক সোলাইমান খাঁন মজনু, জনউদ্যোগের আহ্বায়ক শিক্ষাবিদ আবুল কালাম আজাদ, শেরপুর ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে জেলা শহরের সজবরখিলা মহল্লার বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি—-রাজিউন)।

তিনি দীর্ঘদিন যাবত শারীরিক দূর্বলতাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহা পরিচালক শাহজাদী আঞ্জুমান আরা মুক্তির বড় ভাই। তিনি জন্মসুত্রে নকলা উপজেলার চন্দোকোনা ইউনিয়নের জানকিপুর গ্রামের এক সম্ভান্ত পরিবারের সন্তান হলেও ছাত্র জীবন থেকে শেরপুর শহরে বসবাস করতেন। তিনি শহরের জিকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাবস্থাতেই তৎকালিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হন। আশির দশক থেকে তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম অঞ্চলে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন।




