ads

মঙ্গলবার , ১৮ জানুয়ারি ২০২২ | ২০ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নিরবেই চলে গেলেন শেরপুরের সংস্কৃতিসেবী ক্ষমা চক্রবর্তী

অযত্ন-অবহেলায় রোগে-শোকে ধুকে-ধুকে দীর্ঘসময় কাটানোর পর অবশেষে নিরবেই চলে গেলেন শেরপুরে অন্যতম সংস্কৃতিসেবী ক্ষমা চক্রবর্তী (৬৫)। তিনি ১৭ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের পুরাতন গরুহাটিস্থ নিজ বাসায় ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোকের পথে পাড়িজমান। তিনি ছিলেন আজীবন চীরকুমারী, বিশিষ্ট বাচিক ও সংগীত শিল্পী, নাট্যাভিনেত্রী, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইগাতীর শফিউদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শহরের শেরী শ্মশানে তাকে দাহ করা হয়। ওইসময় স্থানীয় সংস্কৃতিসেবী, শুভাকাঙ্খী ও আত্নীয়-স্বজন উপস্থি ছিলেন।
জানা যায়, শিক্ষা জীবন থেকেই তিনি উদীচীসহ নানা প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর পাশের পর তিনি নিজ জেলা শেরপুরে ফিরে নব-প্রতিষ্ঠিত ডা. সেকান্দর আলী কলেজে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ঝিনাইগাতীর শফিউদ্দিন ডিগ্রী কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পাশাপাশি স্থানীয় সাপ্তাহিক দশকাহনীয়া পত্রিকায় লেখালেখিসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে উতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। নিজের বাসাকেও গড়ে তোলেন সংস্কৃতির এক চর্চাশালা হিসেবে। যে কারণে সমবয়সীসহ অনেক অগ্রজ-অনুজ সংস্কৃতিসেবী ও কর্মীর প্রতিনিয়ত বিচরণ ছিলো তার অঘোষিত সংস্কৃতির পাঠশালায়। কিন্তু চিরকুমারী গুণি শিল্পী অধ্যাপক ক্ষমা চক্রবর্তীকে আস্তে-আস্তে পেয়ে বসে রোগে-শোকে। ফলে ক্রমেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। আর ওই অবস্থায় তিনি দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে স্মৃতি বিভ্রম রোগে ভুগছিলেন। এ জন্য তিনি ওইসময়কাল থেকে কাউকে চিনতে পারতেন না। অসুস্থ্যতার কারণে সময়ের আগেই চাকুরী জীবন থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে নিজ বাসাতেই সময় পাড় করছিলেন। পিতা-মাতা আগেই বিগত হওয়ায় জীবনের ওই ক্রান্তিলগ্নে তার সেবাশুশ্রূষায় পাশে ছিলেন বড় বোন মিনু ও ভাগ্নে অপূর্ব ভট্টাচার্য। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য, দীর্ঘ ওই ক্রান্তিলগ্নে তিনি ছিলেন একেবারেই অবহেলিত ও উপেক্ষিত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক কোন সংগঠনের তরফ থেকেই তার সহায়তায় বাড়ানো হয়নি হাত।
তবে, তার প্রয়াণে তাকে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন কেউ কেউ। নিজ নিজ ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া তাদের অনুভূতিগুলোই শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র পক্ষ থেকে তুলে ধরা হলো:

Shamol Bangla Ads

শিব শংকর কারুয়া শিবু :

Shamol Bangla Ads

শ্রদ্ধেয় ক্ষমা চক্রবর্তী। কী অসাধারণ তাঁর কন্ঠ।কবিতা গানে যার তুলনা নেই।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা’য় এম,এ করে শেরপুর এসে থেকে গেলেন।চাকরি নিলেন ঝিনাইগাতী কলেজে শিক্ষকতার।
ঢাবি’তে থাকতে সংস্কৃতি সংসদের সাথে জড়িত ছিলেন।কত তারকা নামজাদা লোকের সাথে ওঠাবসা ছিলো তাঁর।আমাকে একবার তাঁর বান্ধবী ফাল্গুনী হামিদের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন।(নামকরা অভিনেত্রী।শিশু একাডেমীর মহাপরিচালক ছিলেন)কী অন্তরঙ্গ সম্পর্ক।
ক্ষমাদী নিজে যেমন একজন গুণি শিল্পী।তাঁর বাড়ির পরিবেশটাও ছিলো তেমনি সংস্কৃতি চর্চার জন্য অনুকূল।মাসীমাকে (ক্ষমাদীর মা)দেখেছি কী সঙ্গীত পিপাসু।তাঁর বাসা বাড়ীতেই আমরা গান কবিতা নাটকের রিহার্সাল করতাম।বিনিপয়সার চানাস্তা তো ছিলোই।
আমরা তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। দলবেঁধে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই।
আমাদের এই দলবেঁধে চলাচলের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ক্ষমাদীও একবার সঙ্গী হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে।আমরা যেমন শেরপুরে উদীচী করি তেমনি রাবিতেও নিবিষ্ট মনে সংস্কৃতি চর্চা করি।উদীচী করি।মনে হয় যেন উদীচী করাই আমাদের লক্ষ্য অভীষ্ট।ক্ষমা চক্রবর্তীও কয়েকদিনের জন্য এই অভীষ্টে সামিল হলেন।তাঁর গানে মুগ্ধ হলো রাবি’র সাংস্কৃতিক অঙ্গন।আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে,যারা ক্ষমা চক্রবর্তী’র গান শুনেছেন তারা মোহাবিষ্ট না হয়ে পারেন না।
আজীবন চীরকুমারী এই গুণি শিল্পী আজ ১৭ জানুয়ারি ২০২২ সন্ধ্যা ছয়টায় শেরপুরের বাসভবনে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোকের পথে পাড়ি দিলেন।

বিগত প্রায় এক দশক তিনি স্মৃতি বিভ্রম রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কাউকে চিনতে পারেননি।জীবনের এই ক্রান্তিলগ্নে তাঁর প্রতি বড় বোন মিনুদি এবং ভাগ্নে অপূর্ব ভট্টাচার্যের সেবাশুশ্রূষা ছিলো অসাধারণ। অতুলনীয়।

বিশিষ্ট বাচিক ও সংগীত শিল্পী, নাট্যাভিনেতা বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শেরপুর জেলা সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরম শ্রদ্ধেয় ক্ষমা চক্রবর্তী আজ সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শেরপুর জেলা সংসদের পক্ষ থেকে জানাই গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

জ্যোতি পোদ্দার : 

কবি ও বাচিক শিল্পী ক্ষমা চক্রবর্তী লোকান্তরিত হলেন।
হিরন্ময়ী দেবীর পর ষাটের দশকের শেষে নারীদের উপস্থিত পাই।কবি শাহজাদী আর্জুমান, শাহেদা বেগম রুনু কে পাই সত্তুর দশকে কলেজ বা ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন স্মরনিকায়।
আশির দশক থেকে নারী সাহিত্যকর্মীর উপস্থিতির উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। রোজিনা তাসমিন, বিভা সরকার, ক্ষমা চক্রবর্তী, এমেলী পারভেজ, সানজিদা মনিকা,মনিকা চক্রবর্তী, রত্না চক্রবর্তী, তৌহিদা বেগম,শুক্লা সরকারর, শামীমা আখতার শিউলি প্রমুখ।
নারী সাহিত্য কর্মীদের মাঝে বিভা সরকার রোজিনা তাসমিন আর ক্ষমা চক্রবর্তী ‘মানুষ থেকে মানুষে’ প্রকাশিত তাদের কবিতা কিংবা ছড়ায় নিজস্বতা অর্জনের চেষ্টা লক্ষনীয়।
টুঙ্গি পাড়ার মুঙ্গি বাবু
গান গাইতেন ভালো।
ঠোঁটগুলো তাঁর কেঁচোর মতো
দাঁত গুলো তার কালো।
দাঁত চিবিয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে
খেয়াল গাইতেন হা —- হা
কেউবা কানে আঙুল দিতেন
কেউ বলতেন আ—- হা
( মুঙ্গি বাবুঃ ক্ষমা চক্রবর্তী)
রোজিনা তাসমিন এখনো কবিতাতেই আছেন।আছেন টাউন শেরপুরে বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডায় মুখরিত।
বিভা সরকার গেরস্থালিতে। নব্বইয়ের পর তাঁর কবিতা আর কোন কাগজে দেখিনি। একটি কবিতার বই প্রকাশ করেছেন শুনেছি। বিভা সরকার ও রোজিনা তাসমিন — এই দুই কবিই— তাদের কবিতায় উচচকিত স্থানিক অন্য যে কোন নারী সাহিত্যকর্মীর তুলনায়।
আর ক্ষমা চক্রবর্তী সব কিছু থেকে দূরে। একাকী নিরবতার জীবন বেছে নিলেন। কবি রোজিনা তাসমিন ক্ষমাদিকে লিখেছেন ,” আমাদের ক্ষমাদি খুব গোছানো পরিপাটি– ঘরটাও যেমন রাখতো নিজেও থাকতো। খুবই ধার্মিক ছিলো। সন্ধায় বাসায় গেলে তাকে পুঁজার ঘরে পাওয়া যেতো। এক পেচে শাড়ী পড়ে, পিঠে লম্বা চুল ছেড়ে ওনি পুঁজায় নিমগ্ন থাকতেন। খুব ভালো লাগতো। ফুল খুব ভালোবাসতেন। তার একটা সখের বাগান ছিলো। প্রতিদিন ভোরে উঠে বাগানের আগাছা , ময়লা, ঝরে পড়া পাতা পরিষ্কার করতেন। সকালে তাজা ফুল ফুলদানীতে রাখতেন।”
ক্ষমাদি সাপ্তাহিক দশ কাহনিয়ায় এক সময় নিয়মিত লিখতে।ওনি ঢাবি থেকে বাংলায় অর্নাস মাস্টার্স করেছেন। শামসুন্নহার হলে থাকতেন। পরবর্তিতে ঝিনাইগাতী কলেজের টিচার ছিলেন। দীর্ঘদিন বাসে যাতায়াত করতে করতে হঠাৎ একদিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে অসুস্থতা বাড়তে থাকে। এখন খুবই গুরুতর অবস্থা। একেবারেই শয্যাসায়ী। ওনার বড়বোন দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ ওনার দেখা শুনা এবং সেবা করছেন। সে আমাদের মিনুদি। ওনিও খুব ভালো মানুষ। মিনুদি না থাকলে যে কি হতো! যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছেন। আল্লাহই সব ব্যবস্থা করে দেন।
“ক্ষমাদির বিয়ে করেননি। সারাজীবন একা। ইচ্ছে করে বিয়ে করেননি তা না। ওনার রুচিবোধ আর গোত্রবোধ ছিলো প্রখর। বর মেলাতে মেলাতে একসময় বয়স বেড়ে গেছে, তার পর আর বরই মেলানো যায়নি। আর সে কারণেই তিনি একা হয়েই রইলেন আজীবন।
আজকের ক্ষমাদিকে দেখে কেউ মানতেই হয়তো চাবেন না– এই ক্ষমাদি সেই ক্ষমা দি। দিদি আজ কোন কথা বলেননা। নামধরে ডাকলে শুধু হু বলেন। কোন বোধ-বুদ্ধি নেই। আমাকে শুুধ চেয়ে চেয়ে দেখলেন। কখনযে নিজের অজান্তেই তার চোখ বেয়ে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়েছে নিজেও হয়ত জানেননা। “

Need Ads