ads

মঙ্গলবার , ৯ নভেম্বর ২০২১ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ইউপি নির্বাচন : শেরপুর সদরে ৯টিতেই আ’লীগ-বিদ্রোহীদের লড়াই

স্টাফ রিপোর্টার - ফটো কার্ড
নভেম্বর ৯, ২০২১ ৩:০৩ অপরাহ্ণ

২টিতে আ’লীগ-বিএনপি ও ১টিতে আ’লীগ-জাপা প্রার্থীর

দ্বিতীয় দফায় আগামী ১১ নবেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১১টিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন। এতে ৯টিতেই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। কেবল তাই নয়, নৌকা ঠেকাতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীসহ বিএনপি ও জাতীয় পার্টিমনা প্রার্থীরাও একাট্টা হয়েছেন। তবে অন্যান্য এলাকার মতো এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পদ-পদবিতে থাকা বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এখনও সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে নৌকা ঠেকাতে বিএনপি ও জাপামনা প্রার্থীসহ বিদ্রোহীরা একাট্টা হওয়ায় অধিকাংশ ইউনিয়নে জটিল হয়ে উঠেছে নৌকার জয়-পরাজয়ের হিসাব। সরেজমিনে ঘুরে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সচেতন মহলের সাথে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় প্রথমত: কামারেরচর ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব এবং পরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় পাকুড়িয়া ইউপিতে আলহাজ্ব হায়দার আলী ও গাজীরখামার আওলাদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ওই তিনজনই আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। ফলে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে অবশিষ্ট ১১ ইউনিয়নে।

Shamol Bangla Ads

এর মধ্যে চরশেরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মিল্টনের নৌকা প্রতীকের বিপরীতে এবারও আনারস প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে নামেন বিদ্রোহী প্রার্থী, জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সুরুজ। তবে এখন তিনি নৌকা প্রতীকের প্রতি সমর্থন দেওয়ায় এ ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থক সেলিম রেজার সাথেই মূল লড়াই হবে। এছাড়া এ ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীসহ আরও ৩ প্রার্থী থাকলেও মাঠে নেই তাদের কোন তৎপরতা। ফলে এ ইউনিয়নে এখনও জটিল সমীকরণে রয়েছে নৌকার জয়-পরাজয়।

লছমনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল হাইয়ের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে এবারও আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া। এছাড়া চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম। এতেও বিদ্রোহীদের সাথে কঠিন লড়াইয়ে রয়েছে নৌকা।
চরমোচারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবুল তালুকদারের নৌকার বিরুদ্ধে এবারও আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন যুবলীগ নেতা এস এম সাব্বির আহমেদ খোকন। তিনি দলের একটি প্রভাবশালী বলয়ের আশির্বাদপুষ্ট প্রার্থী হওয়ায় এখানেও নৌকার জয়ের হিসেব জটিল।

Shamol Bangla Ads

কামারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহানের নৌকার বিরুদ্ধে আনারস প্রতীক নিয়ে এবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী। এখানে হুইপ আতিউর রহমান আতিকের অনুজ বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল বারী চাঁনকে পরিবর্তন করা হলেও তারই বড়ভাই ইসমাইল হোসেন মোটরসাইকেল নিয়ে এখনও প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।
রৌহা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান সোহেলের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে এবারও আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী ও একমাত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মিজু। তবে এখানে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে নৌকা।

বলাইয়েরচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনিরুল আলম মনিরের নৌকার বিরুদ্ধে এবারও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী। এছাড়া এ ইউনিয়নে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ও চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক চেয়ারম্যান মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তারা দুজনও আওয়ামী লীগ ঘরানার। ফলে এ ইউনিয়নে এবারও নৌকার জয়-পরাজয়ের হিসাব কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভাতশালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নাজমুন নাহারের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে চশমা প্রতীক নিয়ে এবারও বিদ্রোহী ও একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা শামীম হোসেন। এখানে এখন পর্যন্ত নৌকা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে দলীয় নেতা-কর্মীরা দাবি করলেও বাস্তব অবস্থা কঠিন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে বাজিতখিলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে লড়ছেন একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আব্দুল্লাহ আল হাসান খুররম। এ ইউনিয়নেও নৌকার বৈতরণী পার হওয়া সহজ নয়Ñ এমনটাই এখন পর্যন্ত আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে ধলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রহিজ উদ্দিনের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বিএনপি নেতা জাকির হোসেন। এছাড়া মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী পরিবারের নারী প্রার্থী জেসমিন আক্তার। এখানে আওয়ামী লীগের স্থানীয় ক্ষুব্ধ একটি অংশ আনারস প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে চলছে নানা বিষোদগার। ফলে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা ও লড়াইয়েই অবতীর্ণ হচ্ছে নৌকা।
চরপক্ষীমারী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আকবর আলীর নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ। এখানে জমজমাট লড়াই হচ্ছে সেয়ানে সেয়ানে। আর বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মজিদের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন এক সময়ের বিএনপি নেতা হয়েও এখন নব্য আওয়ামী লীগার, সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন দুলাল। মনোনয়ন বিতর্কসহ নানা সমীকরণে এ ইউনিয়নেও লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

দল মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ব্যাপারে শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ এখনও রয়েছে। সব বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা নৌকার পক্ষেই রায় দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ২ লাখ ৯০ হাজার ৭১৫ জন ভোটার রয়েছেন।

Need Ads

সর্বশেষ - খেলাধুলা

Shamol Bangla Ads