শেরপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভাতিজার বিরুদ্ধে জমি জবরদখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার আপন চাচা প্রকৌশলী আবু তারিক। ৬ অক্টোবর বুধবার দুপুুরে শহরের মাধবপুরস্থ শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রধান শিক্ষকের নাম রফিকুল ইসলাম মিল্টন। তিনি শেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা দুজনই সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের যোগিনীবাগ এলাকার অধিবাসী। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। তবে ব্যাপারটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রকৌশলী আবু তারিক অভিযোগ করে বলেন, তিনি তার পৈত্রিক সম্পত্তি ওয়ারিশমূলে তার বড় ভাই প্রয়াত শিক্ষক একেএম খসরুসহ অন্যান্য শরিকদের সাথে আইন অনুযায়ী ভাগাভাগি করে নেন। এতে বড় ভাই একেএম খসরু ১১১ শতক জমি পান। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র মিল্টন ১২৬.৪৬ শতক জায়গা ভোগদখল করে আসছেন। তিনি বাড়তি দখল করা ২৫ শতক জমি চাইতে গেলে মিল্টন টালবাহানা করতে থাকেন। সেইসাথে জমিতে চাষাবাদ করতেও বাধা দেন।
এক পর্যায়ে গত ১০ আগস্ট সকালে প্রকৌশলী তারিক তার মালিকানাধীন বিআরএস ২৮২ নং খতিয়ানে ৪১৫ নং দাগে আইল বাঁধতে গেলে খসরুর ছেলে রফিকুল ইসলাম মিল্টন, মাসুদ রানা শিহাব ও রেজাউর রহমান সেলিমের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা তারিকসহ তার ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীর উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে সদর থানা পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এরপর একই দিন তারা ওই পরিবারের সদস্য শারমিনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং প্রকৌশলী তারিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানী করে। তিনি প্রতিপক্ষের ওই সাজানো মামলাটির সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং হয়রানী থেকে রক্ষাসহ জবরদখলকৃত জায়গাজমি দখলমুক্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মিল্টন দাবি করেন, প্রায় ৩০/৪০ বছর যাবত উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া উল্লেখিত জমিগুলো তাদের ভোগদখলে রয়েছে। সেখানে বেশ কিছু গাছও লাগানো আছে। অথচ প্রকৌশলী তারিক আমার ভোগদখলে থাকা অংশের জমি তার স্ত্রীর নামে লিখে দিয়েছেন। বিষয়টি আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রেরও একটি অংশ বলে দাবি করেন তিনি।




