শেরপুরে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও আবাসন প্রকল্পের জমির দলিল হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সদর উপজেলা প্রশাসন ও নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন। ওইসময় তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের আবাসনের কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যে কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া সুতিরপার এলাকায় ২ একক জায়গায় রান্নাঘরসহ ৪০ টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে তাদের জন্য নানা ধরনের আয়বর্ধণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শেরপুর সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হবে। তাদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে অথবা বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। তারই অংশ হিসেবে আজ এই মতবিনিময় সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। আজ তাদের কাগজের ঠোঙ্গা বানানোর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে এর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ উপজেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে এবং একই সাথে তারা যেন তাদের বানানো পণ্য বাজারে সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করে দেয়া হবে।

জনউদ্যোগ আহবায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা আফ্রাদ, সদর উপজেলা সিপিবির সভাপতি সোলয়মান আহমেদ, শেরপুর ডিসট্রিক্ট ডিবেট ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক শুভংকর সাহা, জেলা হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি সরকার, হরিজন নেত্রী মুক্তা হরিজন প্রমুখ। শেরপুর ডিসট্রিক্ট ডিবেট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ চৌধুরী শৈবালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি এজেন্সি গ্যাটি ইমেজের ফটোগ্রাফার এলিসন জয়েস, প্রডিউসার আলী আহসান, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক লক্ষণ রায়, শহর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব আকাশ সরকার, তরুণ উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলাম আবিরসহ হিজড়া জনগোষ্ঠীর ৩৫ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জনউদ্যোগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সংস্থাগুলোর এমন আন্তরিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। শেরপুরে নাগরিক সমাজ ও জনউদ্যোগ ভবিষ্যতেও সরকারের এমন যেকোনো উদ্যোগের সঙ্গে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে।
মতবিনিময় সভা শেষে তৃতীয় লিঙ্গের ১০ জন সদস্যকে কাগজের ঠোঙ্গা বানানোর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। কর্মশালা শেষে ইউএনও ফিরোজ আল মামুন তাদের বিনোদনের জন্য একটি ক্যারমবোর্ডে প্রদান করেন। সবশেষে সাবরেজিস্টার অফিসে আবাসন প্রকল্পের উপকারভোগীদের মাঝে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত জমির দলিল হস্তান্তর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাব রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে হস্তান্তর করা হয়।




