‘কাল গার্মেন্টস খুলবে। জয়েন করতে না পারলে চাকরি থাকবে না। অহন বাড়ি থাইক্যা আইলাম। ভ্যানগাড়ী দিয়ে শেরপুর যামু। একশ ট্যাহা ভাড়া চায়। ঢাকায় যামু ক্যামনে?’ কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সগুনা গ্রামের জাহানারা বেগম (২০) নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিক। ৩১ জুলাই শনিবার দুপুরে পৌর শহরের হাসপাতাল গেইটে কথা হয় এই গার্মেন্টস শ্রমিকের সাথে।

তিনি জানান, ঈদ আর লকডাউনের কারণে গার্মেন্টস বন্ধ ছিল। আগামিকাল রবিবার খুলবে তার কারখানা। এজন্য ছোট বোন জান্নাতআরাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। যাবেন ঢাকার উত্তরা দক্ষিণখান এলাকায়। বাড়ি থেকে শ্রীবরদী পৌরশহরে আসতে ২০ টাকার ভ্যানভাড়া গুনতে হয়েছে ৫০ টাকা। এখন যাবেন শেরপুর শহরে। ভ্যানভাড়া ৪০ টাকার স্থলে দিতে হবে একশ টাকা। সেখান থেকে কতবার গাড়ী বদলাতে হবে? ভাড়া কতগুন বেশি দিতে হবে? গাড়ি পাবে কি না? এসব অজানা। এ সময় জাহানারার চোখে মুখে যেন অমানিশার ছায়া।
চরম হতাশা আর উৎকন্ঠা। শুধু জাহানারা নয়। তার মতো শতশত নারী পুরুষ আর উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীরা ছুটছেন ঢাকার মুখে। নিজের এলাকাতেই পড়তে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়। এদের মধ্যে কেউবা কয়েকগুন ভাড়া বেশি দিয়ে যাচ্ছেন সিএনজি বা প্রাইভেটকারে। আইন শৃংখলা বাহিনীকে দেখাচ্ছেন নানা অজুহাত। এর পরও পথে আর কতবার বিরম্বনায় পড়তে হবে তাও তাদের অজানা। জীবিকার তাগিদে তাদের যেতেই হবে। চরম ভোগান্তির শিকার ঢাকাগামী এসব লোকজনের প্রশ্ন একটাই ঢাকায় যামু ক্যামনে?




