শেরপুরের প্রত্যন্ত পল্লীতে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার ধলা ইউনিয়নের পাঞ্জরভাঙা উলাকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা শিশু স্থানীয় হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের মেয়ে ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
আর অভিযুক্তরা হচ্ছে একই গ্রামের মো. তমছের আলীর ছেলে মো. ফোরকান আলী (২০) ও মো. হারেজ আলীর ছেলে শাহীন মিয়া (১৮)। ফোরকান আলী এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে ঢাকায় তার ভাইয়ের মোবাইলের দোকানে কাজ করে। অপরজন শাহীন স্থানীয় গারোভিটা রিফাত পাবলিক স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ধর্ষিতা শিশু সম্পর্কে ফোরকানের দুরসম্পর্কের ভাগনি ও শাহিনের ভাতিজী। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর আহাম্মেদ। ওইসময় ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশ ও ধর্ষিতার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই শিশু তার বাড়ির পাশে টিউবওয়েলে পানি আনতে যায়। এ সময় আগে থেকেই উৎ পেতে থাকা ফোরকান ও শাহিন ওই শিশুর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে কোলে করে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি ধান ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় ফোরকান ও শাহিন। এদিকে পরিবারের লোকজন ওই শিশুকে অনেকক্ষণ দেখতে না পেয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে।
পরে ধর্ষিতা শিশু অসুস্থ অবস্থায় অন্ধকারে পথ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী চান্দেরনগর গ্রামের কৃষক মো. ইমরান মিয়ার বাড়ির গোয়ালঘরে আশ্রয় নেয়। ওইদিন রাতেই কৃষক ইমরান তার গোয়ালঘরে ঢুকে ধর্ষিতা শিশুর শরীরে কাদামাখা অবস্থায় দেখতে পায় এবং শিশুকে তার বাড়িতে পিতা-মাতার কাছে দিয়ে আসে। পরে শিশুটি তার বাবাকে সব ঘটনা খুলে বললে শিশুর বাবা পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রইস উদ্দিনকে ঘটনাটি জানান। পরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সেইসাথে অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশী অভিযান চলছে।




