দলমতের উর্ধ্বে তিনি একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ ছিলেন ॥ হুইপ আতিক
হাজারও মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শেষ বিদায় নিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী শেরপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লুৎফর রহমান মোহন (৭৪)। ২২ জুন মঙ্গলবার দুপুরে শহরের গৌরীপুর মৈত্রীবাড়ি মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মরহুমের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক এমপি। ওইসময় তিনি বলেন, লুৎফর রহমান মোহন একসময় আওয়ামী লীগ ও পরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বেশ কিছুদিন যাবত শারীরিক কারণে নিজেকে গুটিয়ে রাখছিলেন। এরপরও তিনি দলমতের উর্ধ্বে সকল মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক ছিলেন। একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক খ্যাতি। কাজেই তার মৃত্যুতে শেরপুরবাসী একজন সজ্জন মানুষকে হারালো।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান (মুঠোফোনে), সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, শেরপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র নজরুল ইসলাম, তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার আহবায়ক ফখরুল মজিদ খোকন, মাইসাহেবা জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম স্বপন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল চৌধুরী ও মরহুমের বড়ভাই চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান লিলু প্রমুখ। এছাড়া জানাজায় ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. ওয়াহেদ আলী, শ্রীবরদী উপজেলা চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম ঠান্ডা, শেরপুর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ও এ্যাডভোকেট একেএম মোছাদ্দেক ফেরদৌসী, জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. এমএ বারেক তোতা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজিমুল হক নাজিম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বশিরুল ইসলাম শেলু ও আনোয়ারুল হাসান উৎপল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মামুনুর রশীদ পলাশ, পৌর প্যানেল মেয়র কামাল হোসেন, স্থানীয় কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও মুসল্লী শরিক হন। পরে শহরের চাপাতলীস্থ পৌর কবরস্থান সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা সিদ্দিক আহমেদ।
এদিকে তার মৃত্যুতে অন্যান্যের মধ্যে শোক প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি, জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান আকন্দ, জেলা জাসদের সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আসাদুজ্জামান রওশন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২১ জুন সোমবার রাতে শহরের দক্ষিণ গৌরীপুরস্থ নিজ বাসভবন মমিনবাগে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লুৎফর রহমান মোহন। নিঃসন্তান মোহন মৃত্যুকালে স্ত্রীসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ও আজকের পত্রিকার সম্পাদক ড. গোলাম রহমান রতনের বড় ভাই।
লুৎফর রহমান মোহন শেরপুর পৌরসভার দুইবারের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শেরপুর জেলা বাস-কোচ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি, জেলা কমিউনিটি পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, শেরপুর রোটারি ক্লাবের পাস্ট প্রেসিডেন্ট, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি, ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। এতদসত্ত্বেও একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার ছিল ব্যাপক পরিচিতি। তিনি শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে জীবনের অনেকটা সময় আওয়ামী লীগ এবং পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বেশ কিছুদিন যাবত নিজেকে গুটিয়ে রাখছিলেন। তবে একজন পরিচ্ছন্ন ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সকল মহলেই ছিলেন তিনি সমাদৃত।




