শেরপুরের শ্রীবরদীর হারিয়াকোনা গ্রামে ঝরণার ওপর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো পৃথক দুইটি কাঠের ব্রিজ। এ ব্রিজ উদ্বোধন করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা আক্তার। ২৫ মে মঙ্গলবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ওই ব্রিজ দুটি উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ওইসময় তিনি বলেন, সংবাদ মাধ্যমে এলাকার ভোগান্তির বিষয়টি নজরে আসে। এছাড়াও গ্রামবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে এসেছিলাম। এখানকার মানুষের ভোগান্তির চিত্র দেখে নিজে থেকেই ব্রিজ দুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। পরে উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়ন আর এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। আপনাদের কাঙ্খিত ব্রিজের ওপর দিয়ে এখন ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এখন থেকে কষ্টের অবসান হলো। তিনি আরো বলেন, হয়তো এ ব্রিজ বেশিদিন টিকবে না। এর মধ্যে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা করবো। আপনাদের কষ্ট লাঘবে কিছু করতে পেরেছি, এটাই আমাদের তৃপ্তি। উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে কারিতাসের সুফল প্রকল্পের বিভিন্ন ক্লাষ্টারের সদস্য ও ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সহায়তায় এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত ৬০ ফুট করে দৈর্ঘ্য দুইটি কাঠের ব্রিজ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হলো যানবাহন চলাচল।

ব্রিজ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও হারিয়াকোনা মিশনারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিপুন ম্রংয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আতাউর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রাঞ্জল এম সাংমা প্রমূখ। বক্তারা বলেন, পাহাড়ি জনপদ হারিয়াকোনা গ্রাম। এখানে দুই সহস্রাধিক আদিবাসী লোকের বসবাস। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ গ্রামে বছরে উৎপাদিত হয় লাখ লাখ টাকার সবজি। মালামাল আনা নেয়ায় চলে ভ্যানগাড়ী, মোটরসাইকেল, সাইকেল ও সিএনজি। চলে না অন্য কোনো যানবাহন। এসব যানবাহন চলে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। মাঝে মধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা।
বর্ষায় সড়ক ও ঝরণার অবস্থা হয় বেগতিক। বন্ধ হয় যানবাহন চলাচল। ওই সময় স্কুলে যেতে পারে না ছাত্রছাত্রীরা। গর্ভবতী মা ও অসুস্থ্যদের চিকিৎসা সেবাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। এলাকাটি ভারতের সীমান্তঘেঁষা। এজন্য টহল দিতে হয় বিজিবি’র। প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হয় এনজিও কর্মীসহ পাশের বাবেলাকোনা, চান্দাপাড়া, মেঘাদল গ্রামবাসীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা বিক্রেতাদের। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে ঝরণার ওপর ব্রিজ না থাকায় চলাচলে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অবশেষে অবসান হলো ভোগান্তির। নির্মিত হলো দুইটি কাঠের ব্রিজ। এখন অর্থনৈতিকভাবে বদলে যাবে হারিয়াকোনা গ্রাম। ডিজিটাল বাংলাদেশে উন্নয়নের স্রোতে এগিয়ে হারিয়াকোনা গ্রামবাসী। ওইসময় উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন। ব্রিজ নির্মাণে এলাকাবাসীও খুশি।




