ads

মঙ্গলবার , ২০ এপ্রিল ২০২১ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নিজগৃহে পরবাসী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শান্ত

রেজাউল করিম বকুল - ফটো কার্ড
এপ্রিল ২০, ২০২১ ৩:৪১ অপরাহ্ণ

‘আমারে কইছে ঘর দিমু। তুই মাটি কাইটা দে। আমি মাটি কাইটা দিছি। পানি দিছি। মেলা কষ্ট করছি। চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও কইছে তোর লাইগা সুপারিশ করছি। তোরে ঘর দেবো। পাকা ঘর অইলো। আমারে দিলো না। অহন আমি মাইনষের বাড়িতে থাহি।’ কথাগুলো বলছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের গড়ের বাজারের পাশে খামারবাড়ির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শান্ত (১৪) নামে এক শিশু।

Shamol Bangla Ads

শিশু শান্ত জানায়, ৭-৮ বছর আগে তার বাবা মারা গেছে। পরে তার মা ছোট বোনকে নিয়ে নানার বাড়ি গেছে। বছর দেড়েক পর আরেক তার মা অন্যত্র বিয়ে করে ঘর বেঁেধছে। এখন তার দিন কাটে খেয়ে না খেয়ে। রাতে থাকতে হচ্ছে অন্যের বাড়ি। স্থানীয়রা জানান, এখানে ঘর ছিল। এ ঘরেই তার জন্ম। বড় হয়েছে এখানেই। অথচ ওই ঘর ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হতদরিদ্রদের জন্যে বরাদ্দকৃত অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে পাকা ঘর। কিন্তু ওই পাকা ঘরে তার ঠাঁই হয়নি। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। নিজগৃহে পরবাসী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শান্ত। ১৯ এপ্রিল সোমবার সরেজমিন গেলে ওই শিশু ও তার প্রতিবেশীরা এভাবেই তুলে ধরেন তার ভিটেমাটি হারানো আর দু:সহ জীবনের গল্প।
জানা যায়, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শান্ত’র বাবা আফছার আলী ছিল খামারবাড়ির বাসিন্দা। তিনি পৈত্রিক সূত্রে এক খন্ড জমিতে দু’চালা একটি টিনের ঘরে বসবাস করতেন। দিনমজুরি করে চালাতেন সংসার। গত ৭/৮ বছর আগে দু’সন্তান রেখে মারা যান আফছার আলী। এরপর আফছার আলীর স্ত্রী বিধবা ছাহেদা খাতুন কিছুদিন সেখানে ছিলেন। অবশেষে অভাবের তাড়নায় ছেলে শান্তকে রেখে ছোট মেয়ে সাথীকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। শান্ত মাঝে-মধ্যে মায়ের কাছে যেতো। মায়ের অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় সে পথও এখন বন্ধ। শান্ত’র নানাও দরিদ্র। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি। তাই বাবার রেখে যাওয়া ঘরে থাকতো সে। পেট চালাতো চেয়ে-চিন্তে। সহায়তা করতো তার কাকা, কাকি আর প্রতিবেশীরা। পড়ালেখার সুযোগ তার কখনোই হয়নি। গত বছর অসহায় দরিদ্র ও ভূমিহীনদের জন্যে বরাদ্দ আসে প্রধানমন্ত্রীর উপহার একটি করে পাকা ঘর। ওই বাড়িতে শান্তসহ বসবাস করতো ৪টি পরিবার। এর মধ্যে ছিল শান্ত’র ঘর। বলা হয়েছিল তাকে পাকা ঘর দেয়া হবে। সেখানে নির্মাণ হয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৬টি পাকা ঘর। ঘর পাবার আশায় শান্ত ভিটের মাটি কাটা ও পানি দেয়ার কাজ করেছে। এসব ঘর তুলে দেয়া হয় অন্যদেরকে। নিজভূমে পরবাসী হয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শান্ত। ঘর থেকে বঞ্চিত হয় সে।
শান্ত’র কাকা সোলায়মান বলেন, শান্ত চোখে দেহে না। কোনো কাজকামও করতে পারে না। কোনো মতে চলতে পারে। ওর অহন থাহার ঘর নাই।
কাকিলাকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান হামিদউল্লাহ তালুকদার বলেন, ওই শিশু যাতে ঘর পায়, এজন্য সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু ঘর দেয় নাই। অথচ ওইখানে তার ঘর ছিল।
কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, সে শিশু। এ জন্য তাকে ঘর দেয়া হয়নি। ঘর পেতে হলে পরিবারের আরো সদস্য থাকতে হবে।

Need Ads