স্টাফ রিপোর্টার : ‘বয়স শ্যাষ। বাঁচার আশা এল্লাও নাই। তারপরও বাঁইচ্যা থাকতেই বোট অইতাছে বইলা জীবনের শ্যাষ বোটটা দিবার আইছি। আল্লার কাছে ফরিয়াদ আমার শ্যাষ বোটটা যেন কাজে নাগে’- এমন উক্তিটি বৃদ্ধা সখিনা বেওয়ার। তার বয়স প্রায় ৮০ বছরের উর্ধ্বে হবে। স্বামী আমেজ উদ্দিন বেশ আগেই মারা গেছেন। ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের ঘরে নাতি-নাতনি মিলে সংখ্যা প্রায় ২ ডজন। নিজে বার্ধক্যসহ নানা রোগে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী দীর্ঘদিন যাবত। তিনি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল লক্ষ্মীডাংরি গ্রামের বাসিন্দা। ৪ জুন শনিবার ষষ্ঠ ধাপের আওতায় ভেলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লক্ষ্মীডাংরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নাত-নাতিদের সহায়তায় ভ্যানে চড়ে ভোট দিতে আসলে কথা হয় তার সাথে। জীবনের শেষ ভোটটা কেমন প্রার্থীকে দেবেনÑ এমন প্রশ্নের উত্তর সরাসরি না দিলেও এলাকার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষের আবেগ-উচ্ছ্বাস যে চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রতি অনেকটা তাকেই বোঝাতে চান নানা কথায়।
সখিনা বেওয়ার মতো একই কেন্দ্রে বার্ধক্যের যন্ত্রণা উপেক্ষা করে ভোট দিতে আসেন তারা বানু (৭৫), হানজেলা বেওয়া (৭২) ও রংফুলি বেওয়া (৭৪)। তাদেরও প্রায় একই কথা। এবারের ভোটকেই তারা জীবনের শেষ ভোট বলে ভাবছেন। সেইসাথে শেষ ভোটটি যেন কাজে লাগে এমন প্রার্থনাও করছেন।
উল্লেখ্য, গতবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে চেয়ারম্যান পদে মাত্র ২৬ ভোটে পরাজিত করা হয় এলাকার প্রার্থী মিজানুর রহমান মিয়াকে। তারপরও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি তাকে। এবার তিনি নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চশমা প্রতীকে। অবহেলিত ওই এলাকার মানুষের প্রায় পুরো আবেগ উচ্ছ্বাস তার প্রতি।




