খোরশেদ আলম . ঝিনাইগাতী (শেরপুর) : শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই সেচ সংকট আশংকায় রয়েছেন ৩ হাজার কৃষক। স্থানীয় সোমেশ্বরী নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে বোরো আবাদ করে থাকেন ওই কৃষকরা। কিন্তু প্রতি বছর সোমেশ্বরী নদীর উজানে একটি স্বার্থনেশ্বী মহল অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে ভাটি এলাকার কৃষকের জমিতে সেচ সংকট সৃষ্টি করে থাকেন। চলতি বোরো মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
খাদ্যে উদ্বৃত্ত ঝিনাইগাতী উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২০ হেক্টর। কৃষক পরিবার রয়েছে ৩৪ হাজার ৩শ’ ৫৬ টি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ১২ হাজার ১শ’ ২৫ হেক্টর জমি। বোরো আবাদে সেচ কাজে ব্যবহৃত হয় ৩ হাজার ৬টি গভীর এবং অগভীর নলকুপ। তন্মধ্যে ৩৩টি গভীর নলকুপের পানিতে আবাদ হয় ১ হাজার ৬শ’ ৬২ হেক্টর। ২ হাজার ৬শ’ ৬২ টি অগভীর নলকুপের পানিতে ৮ হাজার ২শ’ ৮০ হেক্টর এবং ৩শ’ ১১টি এলএলপি নলকুপে সোমেশ্বরী নদীর পানিতে আবাদ হয় ৩ হাজার কৃষকের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি। এ নদীর উৎসস্থল ভারতে। নদীটি ভারত থেকে শ্রীবরদী উপজেলার খাড়ামোড়া হয়ে প্রবেশ করলেও পুরো নদীটি ঝিনাইগাতী উপজেলায় বি¯তৃৃত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকরা জানায়, বর্ষা মৌসুমে এ নদীতে পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার কৃষকরা আমন ফসল ফলাতে পারে না। এ নদীর পানিতে আবাদ করে ৩ হাজার কৃষক তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু সোমেশ্বরী নদীর উজানে প্রতি বছর অবৈধভাবে বাধ নির্মাণ করে নদীর গতিপথ বন্ধ করে দিলে ভাটি এলাকার কৃষকদের বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এবারো এ নদীর উজানে ৬টি অবৈধ বাধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ফলে বোরো চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করলেও সেচ সংকটের আশংকায় রয়েছেন কৃষকরা ।




