সরদার ওয়াহিদা পারভীন ডিমলা (নীলফামারী) : আরশাদুজ্জামান আরশাদ একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম। ১৯৭১ সালে ২৭ অক্টোবর পাকসেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ চলাকালে তিনি শহীদ হন। রবিবার তার শাহাদাৎ বার্ষিকী। দিনটি পালনের জন্য আরশাদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে। কর্মসুচীর মধ্যে রয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবরে পুস্পমাল্য অর্পন, মিলাদ মহফিল ও আলোচনা সভা।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার মধ্য ছাতানাই গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আশরাফ আলী বলেন, ডিমলা উপজেলার টুনির হাট এলাকায় পাকসেনাদের একটি বড় ক্যাম্প ছিলো। আমাদের পরিকল্পনা ছিলো ওই ক্যাম্প আক্রমন করতে হবে। পরিকল্পনা মতে, ৬ নং সেক্টর কমান্ডের অধিনে মনির, সিদ্দিক ও মাহাবুবসহ ৫টি কোম্পানির প্রায় ২শ ৫০জন মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালের ২৬ অক্টোবর মধ্য রাতে পাকসেনাদের ওই ক্যাম্প চতুর দিক থেকে ঘিরে নিয়ে আক্রমন করলে পাকসেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ শুরু হয়। এযুদ্ধে পাকসেনাসহ ৬/৭ জন রাজাকার সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমন ঠেকাতে পার্শ্ববতী ক্যাম্প থেকে অতিরিক্ত পাকবাহিনী যোগদিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর পাল্টা আক্রমন শুরু করলে মুক্তিযোদ্ধারা কিছুটা পিছু হটলেও ২৭ অক্টোবর দিনব্যাপী থেমে থেমে যুদ্ধ চলে। এমতাবস্থায় ওই দিন সন্ধা ঘনিয়ে আসলে মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মধ্য ছাতনাই গ্রামে অবস্থান নেয়। এ সময় খবর পৌছে পাশের গ্রাম চাকদাবাস এলাকায় একটি মাঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছে। লাশ দেখে সনাক্ত করা হয় এটা মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ। এর পর ওই রাতেই নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। ওই নামাজে জানাজায় ইমামতি করেছিলেন মরহুম খলিল হাজী। স্বাধীনতাউত্তর এ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে ওই এলাকার নামকরণ করা হয় আরশাদগঞ্জ এবং তার স্মৃতিস্তম্ভকে ঘিরে গড়ে ওঠে আরশাদগঞ্জ হাট, স্কুল-মাদ্রাসা, ঈদগাহ মাঠ, আরশাদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ ইত্যাদি। শহীদ আরশাদের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য স্থানীয় সাধারণ মানুষজন নানা উদ্যোগ গ্রহন করলেও সরকারী পৃষ্টপোষকতার অভাবে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বেশ কয়েক বছর আগে স্থানীয়ভাবে কবরটি পাকা করা হলেও সেটার উন্নয়নতো দূরের কথা, সংস্কার পর্যন্তও হয়নি।
শনিবার সরেজমিনে আরশাদগঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ আরশাদের কবরটি পড়ে রয়েছে চরম অযতœ-অবহেলায়। শহীদের পরিবারের সদস্যরা কোথায় আছে, কি অবস্থায় তার খোঁজও কেও জানে না। তবে শোনা গেছে, তার বাড়ি ছিলো কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায়। আরশাদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মোর্শেদুল করিম কল্লোল শহীদ আরশাদের পরিবারকে খুঁজে বের করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দাবি জানিয়েছেন।




