ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে বর্তমানে আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আভ্যন্তরীন কোন্দল নিরসনে গুরুদ্বপুর্ন ভুমিকা রাখেন তরুন এই নেতা। বিবাদমান দ্বন্দের অবসান ঘটিয়ে সকলের সমন্বয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন সামনের দিকে। যার ফলশ্রæতিতে সদর আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় সাংসদ নির্বাচীত হন আওয়ামী লীগের প্রবীন উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সরকারের বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মমিন টুলু বলেন, ভোলা পৌরসভার ইতিহাসে সবচে তরুন মেয়র হিসাবে সকলের কাছে জননন্দিত মনিরুজ্জামান মনির। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মেধার মাধ্যমে বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগ এক প্লাটফর্মে অবস্থিত। পাশাপাশি পৌরসভার উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন তিনি। তাই খুব সহজে ভোলায় তরুন সমাজের অহংকারে পরিনত হয়েছেন মেয়র মনির।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৫ জানুয়ারি ভোলা পৌরসভার ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দীতাপুর্ন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মনিরুজ্জামান মনির। জেলার একাধিক হেবিওয়েট প্রার্থীদের পরাজিত করে আসিন হন পৌর পিতার আসনে। বিপুল জনপ্রিয়তায় জেলা যুবলীগের আহবায়ক হয়েও হাল ধরেন মুল দলের। শুরু হয় মূল কান্ডারীর ভুমিকায় দলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার পালা। জাতির জনকের আদর্শের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধাশীল উদীয়মান নেতৃত্ব মনিরুজ্জান সামনে থেকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন দলকে। কিন্তু দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সুজোগ সন্ধানীদের অপচেষ্টায় কখোনো কখোনো সে যাত্রায় বেত্যয় ঘটে। তারপরও সাধারন নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে এগিয়ে গেছেন বীজয় নিশানার লক্ষ্যে। এগিয়ে এসেছেন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের দুঃসময়ে। তাই ভোলায় এখন মেয়র মনিরকে ঘিরেই আওয়ামী লীগের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা যায়।
পৌর আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক মো: জসিমউদ্দিন বলেন, তারুন্যের অহংকার মেয়র মনিরুজ্জানের নেতৃত্বে পৌর আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে অনেক বেশি সঙ্গবদ্ধ। তার রাজনৈতিক দুরদর্শীতা ও বিচক্ষনতায় ভোলায় আওয়ামী লীগ ফিরে পেয়েছে হারানো ঐতিহ্য। তিনি বলেন, নেতৃত্বের সঠিক গুনাবলির উপর নির্ভর করে রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকা। আর মেয়র মনিরের রাজনৈতিক গুনাবলীই তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারন বলে তিনি করেন।
এদিকে গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করায় দারুন ভাবে উজ্জিবিত ভোলার সর্বস্তরের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ ও শ্রমীকলীগসহ সকল অংগসংগঠনেই চলছে নতুন করে ঢেলে সাজাবার কাজ।
এ ব্যাপারে মেয়র মনিরুজ্জামান মনির জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে ও তৃনমূলের মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের পক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, জাতির পিতার আদর্শে ভোলার প্রতিটি নেতা-কর্মী আজ উজ্জিবিত। প্রিয় নেতা তোফায়েল আহমেদের নির্দেশে আমরা ভোলায় আজ ঐক্যবদ্ধ। মুজিব আদর্শের ইস্পাতদৃড় মনোবল নিয়ে ভোলায় গোড়ে তোলা হয়েছে আওয়ামী লীগের দূর্গ।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নমব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলের ভিতর দেখা দেয় আভ্যন্তরীন কোন্দল। ক্ষমতার ১ বছরের মধ্যে প্রিয় নেতা তোফায়েল আহমেদকে প্রেসিডিয়াম থেকে অব্যাহতি দেয়া হলে গ্রæপিং প্রকাশ্যে রুপ নেই। আর এতে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দলের সাধারন নেতা-কর্মীরা। বিরোধী দলে থাকাকালীন অবস্থায় নিপিড়ীত ও নির্জাতিত এসব নেতা-কর্মীদের ভাগ্যে স্বান্তনা ছাড়া কিছুই জোটেনি ক্ষমতার পুরোটা সময়। অভিযোগ রয়েছে কিছু নেতা দলের মধ্যে বিভাজন টিকিয়ে রেখে নিজেদের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা চালায় কেন্দ্রে। পাশাপাশি নিজেদের আখের গুছিয়ে রাতারাতি হয়েছেন বিত্তশালী। অবশেষে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সকল কোন্দল মিটেয়ে ভোলার আওয়ামী লীগ এক প্লাটফর্মে অবস্থান নেয়। আর দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে মেয়র মনির গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখেন বলে নেতা-কর্মীরা জানান। তাই পুনরায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসায় ভোলায় নেতা-কর্মীরা আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। আর এখানে প্রত্যাখান করা হয়েছে তথাকথিত সুবিধাবাদী ও ভন্ড নেতাদের।
মেয়র মনিরুজ্জামান আরো বলেন, অতিতে যারা গ্রæপিং’র মাধ্যমে দল ভাঙ্গনের চেষ্টা করেছিল তারা সবাই এখন পরিত্যজ্য। সাধারন কর্মীদের বিভ্রান্তকারী কথিত এসব নেতারা এখন জনবিচ্ছিন্ন। নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও দলীয় আদর্শ ও ঐক্য বজায় রাখবেন হবে বলে মেয়র মনির জানান।




