মোঃ খালেদ পারভেজ বখ্শ, মৌলভীবাজার : দশম সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রথম দফায় অনুষ্ঠিতব্য দেশের ৪র্থ উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে এখন সরগরম মৌলভীবাজার জেলার রাজনৈতিক সচেতন উপজেলা কুলাউড়া। জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে একমাত্র কুলাউড়া উপজেলায় আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে কুলাউড়া উপজেলা হাওর, বাওর ও চা বাগান অধ্যুাষিত নির্বাচনী এলাকায় ২ লাখ ১১ হাজার ১ শত ৯০ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৪৪০ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ জন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাচনে ৯৩ টি ভোট কেন্দ্র নিধারন করে সব প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে উপজেলা নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সবদলের অংশগ্রহনে বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নানা শ্রেণী পেশার ভোটার থেকে শুরু করে সাধারন মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বেশ জমে উঠছে। আর নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা কৌশল অবলম্বনে করে প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ ৩য় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মতিন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং গত ৫ ফেব্রæয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন এমপি নির্বাচিত হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল ইসলাম ।
স্থানীয় এ নির্বাচন সরাসরি দলীয় না হলে ও ভেতরে ভেতরে রাজনৈতিক দলগুলো দলীয়ভাবে একক প্রার্থী ও দলের সমর্থন দিয়ে ইতিমধ্যে প্রার্থী নির্ধারন করে প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ পর্যায়ে সফর করছেন। দলীয় সিদ্বান্ত মেনে, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও কাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান তার চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় কুলাউড়া উপজেলায় আওয়ামীলীগের দলীয় একক প্রার্থী বর্তমান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কুলাউড়া-জুড়ি আসনের সাবেক এমপি আব্দুল জব্বারের পুত্র মোঃ কামরুল ইসলাম (কাপ পিরিছ) প্রতিক নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে কোন্দল চরমে ও তাদের দুটি গ্রæপ সক্রিয় থাকায় বিএনপির দুই প্রার্থী নাসির রহমান গ্রæপের জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান (আনারস প্রতিক)ও বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির (একাংশের) সভাপতি খালেদা রব্বানী গ্রুপের প্রার্থী শওকতুল ইসলাম (দোয়াত কলম প্রতিক) নিয়ে দু’জন নিজেকে বিএনপির তথা ১৯ দলের প্রার্থী দাবি করে প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্র থেকে প্রথমে শওকতুল ইসলাম ছকুকে দলীয় প্রার্থী দিয়ে আবার ছুকুকে বাদ দিয়ে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নানকে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা দেয়া হয়েছে। বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় ১৯ দলের দলীয় সমর্থকরা প্রার্থী সিলেকশন করতে বিপাকে পড়েছেন। বিএনপির প্রচার অভিযানে দেখা যাচ্ছে নাসির রহমান গ্রুপের ১৯ দলের প্রাথী আব্দুল হান্নানের পক্ষে সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান ও খালেদা রব্বানী গ্রুপের প্রার্থী শওকতুল ইসলামের পক্ষে সাবেক এমপি এমএম শাহীন কাজ করে যাচ্ছেন। অপর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টি নেতা গিয়াস মিয়া (টেলিফোন প্রতিক) ও জাসদ উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন (মোটর সাইকেল প্রতিক) নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
অপর ভাইসচেয়ারম্যান(পুরুষ) পদে আওয়ামীলীগের ৩জন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অরবিন্দু ঘোষ বিন্দু (তালা প্রতিক), উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রান বিষয়ক সম্পাদক গৌরা পদ দে(বৈদ্যুতিক ভাল্প ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহবাব হোসেন রাসেল (টিয়া প্রতিক) নিয়ে বিএনপির ও ১৯ দলের ভাইস চেয়াম্যান পদে ২জন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির বর্তমান সভাপতি বদরুজ্জামান সজল (মাইক প্রতিক) ও উপজেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সম্পাদক রাজানুর রহিম ইফতেখার (চশমা প্রতিক) এবং তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক ফজলুল হক খান সাহেদ (বই প্রতিক) নিয়ে একে অপরের প্রতিদ্বন্দিতা করছেন ।
ভাইস চেয়ারম্যান(মহিলা) পদে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান তানিয়া আক্তার লিমা (কলস প্রতিক) নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। অপর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নতুন প্রার্থী জাসদ পৌর শাখার সভানেত্রী নেহার বেগম (ফুটবল প্রতিক) নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
এদিকে বিগত(তৃতীয় উপজেলা নির্বাচন) আওয়ামীলীগ প্রার্থী আব্দুল মতিন ৬৭ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপি থেকে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু নিয়ে ৩৭ হাজার ৩৪৬ ভোট পান। এদিকে বিএনপি নেতা উপাধ্যক্ষ আবদুল হান্নান নতুন প্রার্থী হওয়ায় চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখী ভোটের লড়াই হবে। আর ত্রিমুখী লড়াই হবে আওয়ামীলীগের কামরুল, বিএনপির শওকতুল ইসলাম ও আব্দুল হান্নানের মধ্যে হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে ।
এদিকে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে কুলাউড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল সাজ সাজ রব, পোষ্টারে ছেয়ে গেছে । শহর, গ্রামের অলিগলিতে, হাট বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনের মূল আমেজ। হোটেল রেস্তোরা থেকে সর্বত্র চলছে প্রার্থীদের নিয়ে চুল ছেড়া বিশ্লেষন। বিশেষ করে সাধারন ভোটারদের মাঝে চলছে দিন গণনা আর প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা নিজেদের পক্ষে ভোট আদায়ের চেষ্টায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণায়।
ভোটরে দিন যত ঘনিয়ে আসছে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা নিজেদের পক্ষে ভোট আদায়ে দিনরাত চালিয়ে যাচ্ছেন
গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারনা। তবে দেখা যাক উপজেলা নির্বাচনে শেষ হাসি কে হাসে ?




