ads

সোমবার , ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

তানোর সদরের একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়টি আড়াই যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৪ ৮:২২ অপরাহ্ণ

Tanore Balica School Photo-03 03.02.2014ইমরান হোসাইন, তানোর : রাজশাহীর তানোর সদরের একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়টি আড়াইযুগ ধরে জড়াজীর্ণ হয়ে থাকলেও এতটুকু উন্নয়ন করা হয়নি। বিদ্যালয়টির বর্তমান সভাপতি ৬টি শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা ডোনেশন আদায় করলেও বিদ্যালয়টি কোন অর্থ পায়নি। একারণে ৩০ বছর আগের তৈরি টিনের ছাপড়া দ্বারা মাটির নূয়ে পড়া ঘর ভেঙ্গে যেতে বসেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালের দিকে মরহুম মজিরুদ্দিন সরকার তিনি তার নিজস্ব জমির উপর তানোর সদরে বালিকা নামের বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন। তার অধিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে তিনটি কক্ষের একটি পাকা ভবন তৈরি হয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়টির উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তানোর পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সরকারকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে গত পাঁচ বছরে বিদ্যালয়টিতে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দেন। এসব নিয়োগকৃত শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকা ডোনেশন নেয়া হলেও বিদ্যালয়টির কোন উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন থেকে ওই বিদ্যালয়ে কোন রিপিয়ারিং কাজ না করায় ঘরের দরজা ও জানালা ভেঙ্গে পড়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি দেখে মনে হয় কোন এক সময়ের পুরনো পরিত্যক্ত বাড়ি। ফলে বহুদিনের পুরানো মাটির ওইসব ঘরের মেঝে ও বারান্দা দিয়ে শিক্ষার্থীরা আজোও চলাচল করে ক্লাশ করছেন।
এনিয়ে ৩ জানুয়ারী সোমবার সরজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে কথা হয় ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী দিবা খাতুন, বিথি ও শেফালীসহ আরো অনেকের সঙ্গে তারা জানান, তাদের বিদ্যালয়ে অবকাঠামোর বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। বেশ কয়েকটি টিনের ঘরে কোন ছাদ নেই। চাটাই দেয়া ঘরগুলো সব নষ্ট হয়ে পড়েছে। যতক্ষণ ধরে বৃষ্টি হয় ততক্ষণ ধরে প্রতিটি টিনের ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ে বলে বালতি দেয়া থাকে। বৃষ্টির পানি যেন মেঝেতে পরে কাদার বৃষ্টি না হয়। একারণে বৃষ্টি হলে স্যারেরা ক্লাশ বন্ধ রেখে চলে যান। ব্লাকবোর্ড নষ্ট হওয়ায় স্যারেরা কোন কিছু লিখলে বুঝা যায় না। বেশ কয়েক মাস ধরে একমাত্র টিউবওয়েল বিকল হয়ে পড়ায় পানি খাওয়ার ভীষণ সমস্যা। একটি মাত্র নূয়ে পড়া টয়লেট হওয়ায় অনেক সময় সমস্যার সৃষ্টি হয়। মেইন গেট ও সিমানা প্রাচীর না থাকায় সাধারণ মানুষ অবাধে চলাফেরা করে। এছাড়া বিদ্যালয়টি সাব-রেজিষ্ট্রী অফিস সম্মূখে হওয়ায় বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার স্কুলে আসতে মন চাই না। ওই দুইদিন সাধারণ মানুষের বেশি চলাফেরা শুরু হয়। এতসব সমস্যা বলতে বলতে আবেগে প্রবনহয়ে পড়েন ছাত্রীরা।
Tanore Balica School Photo-04 03.02.2014কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজস করে এসব ডোনেশনের টাকা আত্মসাৎ করায় বিদ্যায়লটির এপরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নিয়ে বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আবদুল মজিরুদ্দিন সরদারের ছেলে গোলাম রাব্বানী ও আব্দুল লতিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের বাবা অনেক আশা নিয়ে নিজস্ব জমিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন। বর্তমান সভাপতির অনিয়মের কারণে তার আশা অঙ্কুরেই খুয়ে গেছে। বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি প্রদীপ সরকার সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান এমপির এত কাছের লোক হয়েও কোন উন্নয়ন করতে পারেননি।  এছাড়া বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে আশা অনুদানের টাকা তসরুফ করা হয়েছে। এসব নিয়ে কোন অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না বলে নিরবে রয়েছেন তারা।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়টির বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা আবেদা সুলতানা বলেন, শিক্ষক নিয়োগের টাকার বিষয়ে তিনি কিছু জাননে না। এসব নিয়ে তিনি স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
এব্যাপারে বিদ্যালয়টির বর্তমান সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার কৌশলে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বলেন, মাটির ঘরগুলো দুয়েক মাসের মধ্যে চমচক করবে। এছাড়াও একটি ভালোমানের মেইন গেট তৈরী করা হবে। আপেক্ষা করলে সবই দেখতে পাবা বলে সাংবাদিককে তিরষ্কার করে এভাবেই বলেন তিনি।

Need Ads
error: কপি হবে না!