শিরোপা জিততে আর মাত্র এক ধাপ বাকি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচ শুরুর আগেই জাতীয় সংগীতের সময় এর গুরুত্ব বুঝেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা।

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য একটা অভিজ্ঞতা ছিল। জাতীয় সংগীতের মুহূর্তে আমরা বিশেষ অনুভূতি পেয়েছি। পুরো দল বুঝেছিল, এটি সাধারণ কোনো ম্যাচ নয়। পুরো আর্জেন্টিনা এই জয় চেয়েছিল, আমরাও চেয়েছিলাম। সেই লক্ষ্য পূরণ করে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পেরেছি।’
ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পরও দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে পারাটা অবিশ্বাস্য। ম্যাচ কঠিন হয়ে যাওয়ার পরও আমরা বিশ্বাস হারাইনি। নিজেদের খেলায় ফিরেছি, বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছি। শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দলের ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল বলেও জানান মেসি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম এই দল শেষ চারে থাকবে এবং শিরোপার জন্য লড়বে। এখন আবারও ফাইনালে উঠেছি। টানা পাঁচটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল এবং টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল, এটা সত্যিই অসাধারণ অর্জন।’
সমালোচকদের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মেসি বলেন, ‘এই দল আমাকে অবাক করে না। অনেকের সন্দেহ ছিল, কারণ কয়েকজন খেলোয়াড় পুরোপুরি ফিট ছিল না। কিন্তু আমরা একসঙ্গে থাকলে সবসময় নিজেদের সেরাটা দিতে পারি।’
রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করেই মেসি বলেন, ‘স্পেন দুর্দান্ত একটি দল। তাদের খেলার ধরন বহু বছর ধরে একই রকম। বিশ্বকাপের ফাইনাল সবসময়ই বিশেষ এবং আমি মনে করি ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’
শেষে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘এটি ছিল বিশেষ একটি ম্যাচ। আমরা হারতে পারতাম না। যদি হেরে যেতাম, অনেকেই নানা বোকামিপূর্ণ কথা বলত। আমরা তাদের সেই সুযোগ দিইনি। আমরা জানতাম, ফুটবলীয় সামর্থ্যে আমরা তাদের চেয়ে ভালো। তবে এমন ম্যাচে ইতিহাস, আবেগ ও চাপ সবকিছুই কাজ করে।’




